আত্মবিশ্বাসই মানুষের জীবনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। যোগ্যতা, পরিশ্রম কিংবা সুযোগ—সবকিছু থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এগিয়ে যেতে পারেন না শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাসের অভাবে। মনের ভেতরে বারবার ঘুরতে থাকে—“আমি পারব তো?”, “যদি ব্যর্থ হই?” এই কিন্তু-কিন্তু ভাবই ধীরে ধীরে সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, আত্মবিশ্বাসের অভাব শুধুই মানসিক দুর্বলতা নয়, অনেক সময় এর নেপথ্যে কাজ করে গ্রহের প্রভাব। জন্মছকে নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রহ দুর্বল হলে মানুষের মনে ভয়, সংশয় এবং সিদ্ধান্তহীনতা বাড়তে পারে।
শাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্য আত্মসম্মান, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাসের প্রধান কারক গ্রহ। জন্মছকে সূর্য দুর্বল হলে নিজের প্রতি বিশ্বাস কমে যায়, মানুষ নিজেকে ছোট করে দেখতে শুরু করে। তাই প্রতিদিন ভোরবেলা সূর্যকে জল অর্পণ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়। জল দেওয়ার সময় সূর্যের দিকে তাকিয়ে নিজের লক্ষ্য ও শক্তির কথা মনে করলে আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে দৃঢ় হয়। এর ফলে কাজের প্রতি মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়ে।
অন্যদিকে, চন্দ্র মনের স্থিতি ও মানসিক শক্তির প্রতীক। চন্দ্র দুর্বল হলে মন অস্থির হয়, আবেগপ্রবণতা বাড়ে এবং সামান্য সমস্যাতেই মানুষ ভেঙে পড়ে। এই অবস্থায় নিজের যোগ্যতা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়। জ্যোতিষ মতে, চন্দ্রের প্রভাব ইতিবাচক করতে নিয়মিত ধ্যান অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোযোগ দিলে মানসিক স্থিরতা আসে এবং মনের ভিত মজবুত হয়।
মঙ্গল সাহস, উদ্যোগ ও আত্মপ্রত্যয়ের প্রতীক। জন্মছকে মঙ্গল দুর্বল হলে মানুষ ঝুঁকি নিতে ভয় পায়, নতুন কাজে হাত দিতে দ্বিধা বোধ করে। শাস্ত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার লাল রঙের কোনও বস্তু দান করা বা পাখিদের খাবার দেওয়া মঙ্গলের শক্তি বৃদ্ধি করে। অনেকে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শে লাল প্রবাল ধারণ করেন, যা সাহস ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
এছাড়াও, বৃহস্পতি মানুষের জ্ঞান, বিচক্ষণতা ও নিজের ওপর বিশ্বাসের কারক গ্রহ। বৃহস্পতি দুর্বল হলে জীবনের লক্ষ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দ্বিধা আসে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাওয়ার সময় হলুদ রঙের পোশাক পরলে বৃহস্পতির ইতিবাচক প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এতে মনে স্থিরতা আসে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
তবে শাস্ত্রসম্মত এই উপায়গুলির পাশাপাশি একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি—আত্মবিশ্বাস কোনও জাদুর কাঠিতে একদিনে তৈরি হয় না। নিয়মিত ইতিবাচক চিন্তা করা, নিজেকে ছোট না করা এবং নিজের ছোট ছোট সাফল্যগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। গ্রহের প্রভাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের চেষ্টা, অভ্যাস এবং মানসিক প্রস্তুতিই জীবনের মোড় ঘোরায়।
যেদিন আপনি ধীরে ধীরে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখবেন, সেদিন আর সুযোগ হাতছাড়া হবে না। মনের কিন্তু-কিন্তু ভাব মিলিয়ে যাবে, আর আত্মবিশ্বাসই হয়ে উঠবে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।