বয়স যেন তাঁর কাছে কেবল একটি সংখ্যা। ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সেও শিখর ধাওয়ান প্রমাণ করে দিলেন, সঠিক জীবনযাপন আর নিয়ম মেনে চললে ফিটনেস ধরে রাখা অসম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আপাতত দূরে থাকলেও শরীরচর্চা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও নিজেকে সরাননি ভারতের প্রাক্তন তারকা ওপেনার। ফলাফল—ইস্পাতকঠিন শরীর এবং নজরকাড়া সিক্স প্যাক অ্যাবস।
সম্প্রতি নিজের ফিটনেস রুটিন নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘গব্বর’। ধাওয়ানের মতে, ফিট থাকার মূল চাবিকাঠি হল ধারাবাহিকতা। তিনি বিশ্বাস করেন, অতিরিক্ত জটিল বা কষ্টকর কসরতের চেয়ে নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করাই বেশি জরুরি। সেই কারণেই সপ্তাহে তিন দিন তিনি ওয়েট ট্রেনিং করেন। এতে পেশির গঠন মজবুত থাকে এবং শরীরের শক্তি বজায় থাকে।
বাকি দু’দিন তাঁর রুটিনে থাকে কার্ডিও। দৌড়ানো বা অ্যারোবিক্সের মাধ্যমে তিনি হার্টের ক্ষমতা ও স্ট্যামিনা বাড়ান। তবে কোনওভাবেই ওয়ার্ম-আপ এড়িয়ে যান না ধাওয়ান। চোট এড়াতে শরীর ভালোভাবে গরম করাকে তিনি ফিটনেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন। পাশাপাশি নিয়মিত যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করে শরীরকে রাখেন নমনীয় ও সচল।
আরও পড়ুন:Lifestyle: শীতে পায়ের পেশিতে বারবার টান—বাত নয়, আসল কারণ জানলে সতর্ক হবেন
খাদ্যাভ্যাসেও যথেষ্ট সচেতন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। তবে কঠোর ডায়েটের ফাঁদে নিজেকে বন্দি করেন না। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের সঠিক ভারসাম্যই তাঁর ডায়েট চার্টের মূল ভিত্তি। মাঝেমধ্যে প্রিয় আলু পরোটা খেলেও নেন, তবে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরচর্চার মাধ্যমে ঝরিয়ে ফেলেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলেন এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখেন প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল।
শিখর ধাওয়ানের মতে, ফিটনেস মানে শুধু সুন্দর শরীর নয়—এটি আত্মবিশ্বাস ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম উপায়। তাঁর জীবনযাপনই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। চল্লিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও যে স্বপ্নের মতো ফিট শরীর পাওয়া সম্ভব, তা দেখিয়ে দিচ্ছেন শিখর ধাওয়ান। কেবল অ্যাথলিটদের নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও তাঁর এই সহজ ও বাস্তবসম্মত ফিটনেস দর্শন আজ বড় অনুপ্রেরণা।