হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ও বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী ধন, ঐশ্বর্য ও সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী হলেন দেবী লক্ষ্মী। সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতি ও পারিবারিক শান্তির সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশ্বাস করা হয়, যে গৃহে লক্ষ্মীর কৃপা বিরাজ করে, সেখানে অর্থাভাব, অশান্তি বা দুর্ভাগ্য সহজে বাসা বাঁধতে পারে না।
তবে শাস্ত্র মতে, দেবী কখনও হঠাৎ করে গৃহ ত্যাগ করেন না। সংসারে অশুচিতা, কলহ, অবহেলা বা নেতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পেলে তিনি প্রথমে কিছু সঙ্কেত দেন। সেই সঙ্কেতগুলি সময়মতো বুঝে সংশোধন করা গেলে পুনরায় তাঁর কৃপা লাভ সম্ভব।
🔸 ঘন ঘন অর্থ-সঙ্কট
অকারণে অর্থক্ষয়, উপার্জন থাকা সত্ত্বেও সঞ্চয় না হওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি বা বকেয়া অর্থ আটকে যাওয়া—এসবই হতে পারে লক্ষ্মীর অসন্তুষ্টির ইঙ্গিত। হঠাৎ ব্যয় বৃদ্ধি বা ধারদেনা বেড়ে যাওয়াও শুভ লক্ষণ নয়।
🔸 সংসারে অশান্তি বৃদ্ধি
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অকারণ ঝগড়া, মানসিক অস্থিরতা, কলহ ও বিবাদ বাড়তে থাকলে তা শুভ শক্তির হ্রাস নির্দেশ করে। যেখানে শান্তি নেই, সেখানে দেবী লক্ষ্মী দীর্ঘদিন অবস্থান করেন না বলে মনে করা হয়।
🔸 পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী নোংরা রান্নাঘর, অগোছালো প্রবেশদ্বার বা বাড়ির চারপাশে আবর্জনা জমে থাকা অত্যন্ত অশুভ। বিশেষত উত্তর-পূর্ব কোণ অপরিষ্কার থাকলে তা নেতিবাচক শক্তির আধার হয়ে ওঠে এবং লক্ষ্মীর বিরক্তির কারণ হতে পারে।
🔸 টাকার অবমাননা
টাকা-পয়সা মেঝেতে ফেলে রাখা, পায়ের কাছে রাখা বা অযত্নে ছড়িয়ে রাখা ধনদেবীর অপমান হিসেবে বিবেচিত। অর্থের অপচয় বা অযথা ব্যয়ও তাঁর অসন্তোষ ডেকে আনতে পারে।
কীভাবে পুনরায় কৃপা লাভ করবেন?
সংসারে শান্তি বজায় রাখা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখাই হল মূল উপায়। শাস্ত্র মতে, শ্রদ্ধা ও শুচিতা বজায় রাখলে দেবী লক্ষ্মী পুনরায় গৃহে অবস্থান করেন এবং জীবন সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.