মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। একনাথ শিন্দের নেতৃত্বে শিবসেনায় ভাঙনের চার বছর পর এবার নতুন করে সংকটে পড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। তাঁর নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-র একাধিক সাংসদ দল ছাড়ার পথে বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, উদ্ধব শিবিরের মোট ন’জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ছ’জন ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরা দিল্লিতে গিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, রবিবার মুম্বইয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা নিজেদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন।
খবর অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ছয় সাংসদ মুম্বইয়ে পৌঁছবেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অন্য রাজ্য থেকেও ফিরছেন। বৈঠকে তাঁরা দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া নথি ও সাক্ষাতের ছবি-ভিডিয়োও প্রকাশ্যে আনতে পারেন।
সূত্রের দাবি, বিদ্রোহী সাংসদরা একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই বিষয়ে স্পিকারকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি সংসদে তাঁদের আসন বিন্যাস পরিবর্তনের আবেদনও করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর।
বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য, উদ্ধব ঠাকরের দল বাল ঠাকরের মূল রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে এসে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে আরও গভীর রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তাঁদের আশঙ্কা। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন উদ্ধব ঠাকরে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে দলকে একীভূত করার কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন উদ্ধব। তিনি জানান, নেতৃত্ব আঁকড়ে থাকার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই। দলের স্বার্থে যোগ্য কোনও কর্মীর হাতে দায়িত্ব তুলে দিতেও তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের আচরণে হতাশা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট লোকসভা কেন্দ্রের ভোটারদের কাছেও তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভাঙন দেখা যায়। তখন একনাথ শিন্দে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিজেপির সমর্থনে সরকার গঠন করেন এবং পরে দলের নাম ও ঐতিহ্যবাহী ‘তির-ধনুক’ প্রতীকও তাঁর শিবিরের দখলে যায়। সেই ঘটনার চার বছর পর ফের উদ্ধব শিবিরে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় মহারাষ্ট্রের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই নতুন অধ্যায়কে ‘অপারেশন টাইগার’-এর দ্বিতীয় পর্ব বলেও আখ্যা দিচ্ছে। যদিও বিদ্রোহী সাংসদদের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। ফলে রবিবারের সম্ভাব্য সাংবাদিক বৈঠকের দিকেই এখন নজর মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলের।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.