একটা সময় ছিল, যখন শরীরের সামান্য সমস্যাতেও ছুটতে হত ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। রক্তচাপ, সুগার, ওজন কিংবা হার্টের পরীক্ষা—সব কিছুর জন্যই নির্ভর করতে হত মেডিক্যাল কর্মীদের উপর। কিন্তু প্রযুক্তির দৌলতে সেই ছবি এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
আজকের দিনে এমন বহু আধুনিক হেলথ ডিভাইস পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলি স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফোনের পর্দাতেই শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা হার্টের রোগী, ডায়াবিটিসে ভুগছেন বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই যন্ত্রগুলি কার্যত আশীর্বাদ।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন আধুনিক প্রযুক্তি বাড়িতে রাখলে নিজের স্বাস্থ্যের উপর নিয়মিত নজর রাখা সহজ হবে।
ইন্টারনেট কানেকটেড ব্লাড প্রেসার কাফ
এই আধুনিক ব্লাড প্রেসার মাপার যন্ত্র সাধারণ স্ফিগমোম্যানোমিটারের থেকে অনেক বেশি স্মার্ট। এটি সরাসরি ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। নিয়মিত রক্তচাপের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে এবং আগের রিডিংয়ের সঙ্গে তুলনা করে হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে সতর্ক করে দেয়।
অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের উপসর্গ বোঝা যায় না, অথচ সেটাই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই স্মার্ট কাফ সেই বিপদ আগেভাগেই ধরতে সাহায্য করে।
কন্ট্যাক্টলেস ইনফ্রারেড থার্মোমিটার
জ্বর মাপার জন্য আর শরীরে থার্মোমিটার ছোঁয়ানোর প্রয়োজন নেই। কন্ট্যাক্টলেস ইনফ্রারেড থার্মোমিটার শরীর স্পর্শ না করেই তাপমাত্রা মাপতে পারে।
এটি যেমন ব্যবহার করা সহজ, তেমনই শিশু ও বয়স্কদের জন্যও নিরাপদ। কয়েক সেকেন্ডেই নিখুঁত তাপমাত্রা দেখিয়ে দেয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।
স্মার্ট ওয়েট স্কেল বা বিএমআই স্কেল
এই ওজন মাপার যন্ত্র শুধু কেজি দেখায় না। স্মার্ট ওয়েট স্কেলে দাঁড়ালেই জানা যায় শরীরের মেদ কতটা, মাসল মাস কত, পানির পরিমাণ এবং বিএমআই কত।
যাঁরা ওজন কমাতে বা ফিটনেস ধরে রাখতে চান, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর। স্মার্টফোন অ্যাপে সব তথ্য সংরক্ষিত থাকায় অগ্রগতি বোঝাও সহজ।
পোর্টেবল ইসিজি মনিটর
হার্টের রোগীদের জন্য নিয়মিত ইসিজি পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এখন বাজারে এমন ছোট আকারের পোর্টেবল ইসিজি মনিটর পাওয়া যায়, যা পকেটেই রাখা যায়।
এই ডিভাইসটি স্মার্টফোনের সঙ্গে কানেক্ট করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসিজি রিপোর্ট দেখিয়ে দেয়। বুক ধড়ফড়, অনিয়মিত হার্টবিট হলে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করা সম্ভব।
পিক ফ্লো মিটার
যাঁদের অ্যাজ়মা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য পিক ফ্লো মিটার খুবই দরকারি যন্ত্র। এটি ফুসফুস থেকে কত জোরে বাতাস বেরোচ্ছে তা মেপে ফুসফুসের ক্ষমতা বোঝায়।
যদিও এটি স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবু শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ব্যবহারে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
গ্লুকোজ মনিটর (কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং ডিভাইস)
টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত আধুনিক সমাধান। আঙুলে সুচ ফুটিয়ে বারবার রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
এই ছোট সেন্সরটি বাহুর উপরের অংশে লাগিয়ে রাখা যায় এবং টানা প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত রক্তে শর্করার ওঠানামা নজরে রাখে। স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার সুগার রিপোর্ট চোখের সামনে পাওয়া যায়।
উপসংহার
স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা যত বাড়বে, জটিল রোগের ঝুঁকি তত কমবে। আধুনিক এই স্মার্ট হেলথ ডিভাইসগুলি চিকিৎসকের বিকল্প নয় ঠিকই, তবে নিয়মিত নজরদারিতে এগুলি ভীষণ সহায়ক।
হাতের মুঠোয় স্মার্টফোন থাকলেই এখন শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব—যা সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।