বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের স্পষ্ট ও নির্ভীক মত প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ভোট, নেতৃত্ব, দুর্নীতি থেকে শুরু করে তারকাদের রাজনৈতিক ব্যবহার—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেছেন।
“তারকা দেখেই ভোট দেন মানুষ”
শ্রীলেখার কথায়, আমাদের সমাজে এখনও এক বড় অংশের মানুষ প্রার্থীর যোগ্যতার চেয়ে তারকা-ইমেজকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বহু মানুষ নিজের জীবনের মৌলিক সমস্যায় জর্জরিত—চাকরি, খাবার, জল—এসবের অভাব থাকা সত্ত্বেও তারা ভোট দেন জনপ্রিয় মুখ দেখে। এই প্রবণতাকে তিনি গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করেন।
“দল ও প্রার্থী—দুটোই জরুরি”
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু প্রার্থী বা শুধু দল—কোনও একটিকে গুরুত্ব দিলে চলবে না বলেই মত তাঁর। একটি সুশাসনের জন্য প্রয়োজন যোগ্য প্রার্থী এবং সুসংগঠিত দল—এই দুইয়ের সমন্বয়।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেমন মানুষ চান?
তিনি স্পষ্ট জানালেন, শিক্ষিত, সৎ এবং গুণী মানুষকেই তিনি নেতৃত্বে দেখতে চান। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য-এর নাম।
“রাজনীতিতেও দরকার প্রশিক্ষণ”
রাজনীতি একটি পেশা—এই বক্তব্যে জোর দিয়ে শ্রীলেখা বলেন, যেমন অন্য পেশায় প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, তেমনই বিধায়ক বা সাংসদদের জন্যও প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। অনেক জনপ্রতিনিধি সংসদে উপস্থিত থাকেন না বা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকেন না—এটা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।
দুর্নীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা
তিনি মনে করেন, নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন সততা। অনেক ক্ষেত্রে ভোটার উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের নামে ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে—এই প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের নিরপেক্ষ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দলবদল নিয়ে কড়া মত
ঘন ঘন দলবদলকে তিনি একেবারেই সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, যারা আদর্শ ছেড়ে শুধুমাত্র ক্ষমতা বা টাকার লোভে দল পরিবর্তন করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা।
রাজনীতিতে শালীনতা ফিরুক
বর্তমান রাজনীতিতে অপশব্দ ও হুমকির ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। যুক্তি ও ভদ্রতার মাধ্যমে আলোচনা হওয়াই কাম্য বলে মনে করেন।
ভাতা নয়, চাই কাজ
ভাতা বা অনুদানের রাজনীতির বিরোধিতা করে শ্রীলেখা বলেন, অল্প টাকার সাহায্য দিয়ে মানুষের মন জেতা দীর্ঘমেয়াদে কোনও সমাধান নয়। তার বদলে কর্মসংস্থান, শিল্প ও শিক্ষার উন্নয়নই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
শক্তিশালী বিরোধী দরকার
তিনি মনে করেন, বিরোধী শক্তি দুর্বল হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে সরকারও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে এবং কাজের গতি বাড়ে।
ইন্ডাস্ট্রির সমস্যাও তুললেন
নিজের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কেও মুখ খুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, শিল্পীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে নির্দিষ্ট গিল্ড বা সংগঠনের লোক নেওয়ার জন্য। এতে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পছন্দের রাজনীতিবিদ
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছেন জ্যোতি বসু।
উপসংহার:
শ্রীলেখা মিত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট—তিনি শুধু সমালোচনা করেননি, বরং একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সচেতন ভোটারই পারে এই পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.