২০১৯ সালে আল-বশিরের পতনের পর শুরু হওয়া ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে সুদানে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ। সেনাবাহিনী ও আরএসএফের সংঘাতে দেড় লাখের বেশি মানুষ নিহত।
সুদানে কেন সৃষ্টি হলো ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ: পেছনের পুরো প্রেক্ষাপট
ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে শুরু হওয়া সশস্ত্র সংঘাত দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে এখন দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। সেনাবাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে দফায় দফায় লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে দেড় লাখেরও বেশি মানুষের। জাতিসংঘ বলছে—বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট সুদানেই।
দুর্ভিক্ষ, বাস্তুচ্যুতি এবং ব্যাপক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ। সাম্প্রতিকভাবে পশ্চিম দারফুরের এল-ফাশের শহর আরএসএফ দখলে নেওয়ার পর গণহত্যার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
গৃহযুদ্ধের সূচনা কোথায়?
এর সূচনাবিন্দু ২০১৯ সাল। তিন দশক ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে অপসারণের দাবিতে তখন দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই চাপে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
এরপর সেনা ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও ২০২১ সালের অক্টোবরে আরেক দফা অভ্যুত্থানে সেই প্রশাসনও ভেঙে যায়। এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন দুই শক্তিশালী ব্যক্তি—
জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান (সেনাবাহিনীর প্রধান ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান)
জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো ওরফে হেমেডটি (আরএসএফ কমান্ডার ও দেশের উপ-নেতা)
একসময় মিত্র হলেও বেসামরিক শাসনে ফেরার প্রক্রিয়া, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আরএসএফের প্রায় এক লাখ সদস্যকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে তাদের মতবিরোধ দ্রুতই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রূপ নেয়।
কিভাবে শুরু হলো সংঘাত?
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের বিভিন্ন এলাকায় আরএসএফের সৈন্য মোতায়েনকে সেনাবাহিনী সরাসরি হুমকি হিসেবে গ্রহণ করে। ঠিক ১৫ এপ্রিল শুরু হয় সংঘাত—যা মুহূর্তেই বিস্তৃত হয়ে পড়ে রাজধানী খার্তুমসহ দেশের বিভিন্ন প্রদেশে।
আরএসএফ দ্রুতই খার্তুমের বড় অংশ দখলে নেয় এবং প্রায় দুই বছর তাদের নিয়ন্ত্রণেই রেখে দেয়। ২০২৫ সালের মে মাসে সেনাবাহিনী রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
কেন মানবিক সংকট চরমে?
লাগাতার বোমাবর্ষণ ও সশস্ত্র হামলায় বহু এলাকা ধ্বংস
খাদ্য সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্ভিক্ষ
স্বাস্থ্যসেবা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যত বন্ধ
দারফুর অঞ্চলে গণহত্যার অভিযোগ
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, যদি সমাধান না আসে, এটি আফ্রিকার সবচেয়ে দীর্ঘ ও নৃশংস গৃহযুদ্ধ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে।
FAQ
1. প্রশ্ন: সুদানের গৃহযুদ্ধ কবে শুরু হয়?
উত্তর: ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল।
2. প্রশ্ন: সংঘাতের প্রধান দুই পক্ষ কারা?
উত্তর: সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ (র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস)।
3. প্রশ্ন: সংঘাত কেন শুরু হয়?
উত্তর: ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আরএসএফকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার বিতর্ক।
4. প্রশ্ন: আল-বশিরকে কেন অপসারণ করা হয়?
উত্তর: তিন দশকের শাসনের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভের কারণে।
5. প্রশ্ন: কোন বছরে আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হন?
উত্তর: ২০১৯ সালে।
6. প্রশ্ন: সংঘাতে কত মানুষ মারা গেছে?
উত্তর: দেড় লাখেরও বেশি।
7. প্রশ্ন: কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে?
উত্তর: প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
8. প্রশ্ন: দারফুরে কী ঘটেছে?
উত্তর: আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
9. প্রশ্ন: আল-বুরহান কে?
উত্তর: সুদানের সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান।
10. প্রশ্ন: হেমেডটি কে?
উত্তর: আরএসএফ কমান্ডার ও প্রাক্তন উপ-নেতা।
11. প্রশ্ন: আরএসএফ কী ধরনের বাহিনী?
উত্তর: আধা-সামরিক বাহিনী।
12. প্রশ্ন: কোন ইস্যুতে দুই নেতার মতবিরোধ তীব্র হয়?
উত্তর: আরএসএফ সদস্যদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তকরণ।
13. প্রশ্ন: কোন শহর আরএসএফ দখলে নেয়?
উত্তর: রাজধানী খার্তুমের বড় অংশ।
14. প্রশ্ন: সেনাবাহিনী কখন খার্তুম ফেরত পায়?
উত্তর: ২০২৫ সালের মে মাসে।
15. প্রশ্ন: জাতিসংঘ কী বলছে?
উত্তর: এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট।
16. প্রশ্ন: দুর্ভিক্ষ কি ছড়িয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, দেশজুড়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।
17. প্রশ্ন: কী কারণে খাদ্য সংকট?
উত্তর: যুদ্ধ, অবরোধ ও কৃষি ধ্বংস।
18. প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সাহায্য কি পৌঁছাচ্ছে?
উত্তর: খুব সীমিত পরিমাণে।
19. প্রশ্ন: যুদ্ধ কি শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে গেছে?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রায় পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
20. প্রশ্ন: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো শান্তি চুক্তি হয়েছে কি?
উত্তর: কয়েকটি চুক্তি আলোচনা হলেও কার্যকর হয়নি।
21. প্রশ্ন: সুদানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী অনিশ্চিত কেন?
উত্তর: নেতৃত্ব সংকট ও সামরিক প্রভাব।
22. প্রশ্ন: আরএসএফের সৈন্য সংখ্যা কত?
উত্তর: এক লাখের মতো।
23. প্রশ্ন: সেনাবাহিনীর লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর: আরএসএফকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো মজবুত করা।
24. প্রশ্ন: আরএসএফ কী চায়?
উত্তর: স্বাধীন প্রভাব ও নেতৃত্ব ধরে রাখা।
25. প্রশ্ন: সংঘাত কি ধর্মীয়?
উত্তর: প্রধানত রাজনৈতিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক, ধর্মীয় নয়।
26. প্রশ্ন: স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন কেমন?
উত্তর: খাদ্য, পানি, নিরাপত্তা ও চিকিৎসায় ভয়াবহ সংকটে।
27. প্রশ্ন: হাসপাতালগুলো কি সচল?
উত্তর: অধিকাংশই ধ্বংস বা বন্ধ।
28. প্রশ্ন: শিশুদের পরিস্থিতি কেমন?
উত্তর: অপুষ্টি, রোগ ও বাস্তুচ্যুতি ভয়াবহ মাত্রায়।
29. প্রশ্ন: অঞ্চলভিত্তিক লড়াই কোথায় বেশি?
উত্তর: দারফুর, খার্তুম ও নীল উপত্যকা অঞ্চলে।
30. প্রশ্ন: বিদেশি শক্তির কোনো ভূমিকা আছে?
উত্তর: কয়েকটি দেশ পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছে বলে ধারণা রয়েছে।
31. প্রশ্ন: গৃহযুদ্ধ বন্ধের প্রধান বাধা কী?
উত্তর: দুই পক্ষের অনমনীয় শক্তির লড়াই।
32. প্রশ্ন: সুদানের অর্থনীতি কেমন অবস্থায়?
উত্তর: কার্যত ধ্বংসপ্রায়।
33. প্রশ্ন: সাধারণ মানুষ কোন পথে পালাচ্ছে?
উত্তর: চাদ, মিশর, দক্ষিণ সুদানসহ আশপাশের দেশে।
34. প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী করছে?
উত্তর: মানবিক ত্রাণ ও শান্তি আলোচনার চেষ্টা।
35. প্রশ্ন: সমাধানের সম্ভাবনা আছে কি?
উত্তর: পরিস্থিতি কঠিন হলেও কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে।
আরও পড়ুন
টানা বৃষ্টি-তুষারপাত, নেপাল এভারেস্ট সফরে গিয়ে আটকে আছেন বহু পর্যটক
#SudanConflict
#HumanitarianCrisis
#AfricaNews

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.