দিনদুপুরে কলকাতার রাস্তায় চরম হেনস্থার শিকার হলেন অভিনেত্রী ও সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। সোমবার দুপুরে এক অ্যাপ ক্যাবে যাত্রাকালীন চালকের দুর্ব্যবহারের মুখোমুখি হন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট ছেলে আদিদেব। ঘটনাটি এতটাই হঠাৎ ও ভয়ঙ্কর ছিল যে শিশুটিও মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে বলে জানান সুদীপা। ঘটনার পরই কয়রা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
কীভাবে শুরু হল সমস্যা?
সুদীপা জানান, বন্ডেল রোডে তাঁর নিজের দোকান থেকে একটি অ্যাপ ক্যাবে উঠে নিউটাউনে দাদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাস্তায় একটি মিষ্টির দোকানে মাত্র পাঁচ মিনিট দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি। সেই অনুরোধে ক্যাব ড্রাইভার তাঁকে আরেকটি ‘স্টপ’ অ্যাড করতে বলেন। প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে আবার মনে হয় যে এত কম সময়ের জন্য অতিরিক্ত স্টপ অ্যাড করা অপ্রয়োজনীয়। এই ছোট তর্ক থেকেই পরিস্থিতি ঘুরে যায় অন্যদিকে।
রুট নিয়ে আপত্তি, শুরু অশ্লীল গালাগালি
অভিনেত্রী জানান, তিনি চালককে বন্ডেল রোড ধরে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির দিক দিয়ে মা উড়ালপুল ধরতে বলেছিলেন। কিন্তু চালক ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য পথে গাড়ি নিয়ে যেতে শুরু করেন। আপত্তি জানাতেই শুরু হয় অশ্লীল ভাষায় গালাগালি। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে।
চূড়ান্ত রূপ—হামলার চেষ্টা, আত্মরক্ষায় মারধর
সুদীপা দাবি করেন, একসময় চালক তাঁকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষায় পাল্টা চড়-ঘুষি মারেন তিনিও। শিশুপুত্র আদিদেব এই দৃশ্য দেখে ভীষণভাবে ভয় পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এখনও ঘটনাটি সে পুরোপুরি ভুলতে পারেনি।
থানায় অভিযোগ
গন্তব্যে পৌঁছেই সুদীপা কয়রা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার ভিডিও বর্ণনা পরে তিনি নিজেই ইউটিউবে শেয়ার করেন, যেখানে গোটা ঘটনা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সেলিব্রিটিদের প্রতি ক্রমবর্ধমান হেনস্থা
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আবারও সামনে এল শহরের নিরাপত্তা ও অ্যাপ ক্যাব পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে তারকাদের হেনস্থার ঘটনা বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগেই রাস্তায় পথকুকুরদের খাবার দিতে গিয়ে অপমানিত হন সায়ন্তনী মল্লিক ও তাঁর স্বামী ইন্দ্রনীল। তাঁদেরও মারধর করা হয় এবং পরে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়।
সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের ঘটনাও সেই তালিকায় আরেকটি সংযোজন। বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রশ্ন তুলছে—কলকাতার রাস্তায় সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি, কেউই কি নিরাপদ নন?
আরও পড়ুন
একগাল হাসিতে নিষাদের ছ’মাস পূর্তি, ছেলের আদুরে মুহূর্ত ভাগ করে নিলেন পিয়া–পরম