বাজারে ‘সুগার-ফ্রি আলু’: সত্য না বিজ্ঞাপনের ফাঁদ?

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগীদের খাদ্যতালিকায় আলু দীর্ঘদিন ধরেই একটি ‘নিষিদ্ধ’ সবজি হিসেবে বিবেচিত। কারণ, আলুতে থাকা উচ্চমাত্রার শ্বেতসার দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে এক নতুন ধরনের আলু আলোচনায় এসেছে—যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুগার-ফ্রি আলু’। দাবি করা হচ্ছে, এই আলু নাকি ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। প্রশ্ন হলো, এই দাবি কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য, আর কতটা বিপণনের কৌশল?

সুগার-ফ্রি আলু আসলে কী?

খাদ্যবিজ্ঞানীদের মতে, বাস্তবে এমন কোনো আলু নেই যাতে একেবারেই শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট নেই। ‘সুগার-ফ্রি আলু’ বলতে মূলত আলুর কিছু নির্দিষ্ট জাতকে বোঝানো হয়—যেমন কুফরি সূর্য, কুফরি চিপসোনা ইত্যাদি—যেগুলি বিশেষ কৃষি-পদ্ধতিতে চাষ করা হয়।

সাধারণ আলু কোল্ড স্টোরেজে দীর্ঘদিন রাখলে তার মধ্যে থাকা স্টার্চ ধীরে ধীরে চিনিতে রূপান্তরিত হয়। এই কারণেই অনেক সময় আলু রান্না করলে হালকা মিষ্টি লাগে। কিন্তু তথাকথিত সুগার-ফ্রি আলুতে এই শর্করা সঞ্চয়ের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে স্বাদে কম মিষ্টি হয় এবং চিনির পরিমাণ কিছুটা কম থাকে।

তাহলে কি এগুলি সত্যিই সুগার-ফ্রি?

এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো—না।

প্রথমত, আলুর প্রধান উপাদানই হলো স্টার্চ, যা শরীরে হজম হয়ে শেষ পর্যন্ত গ্লুকোজে পরিণত হয়। সুগার-ফ্রি আলুতেও এই স্টার্চ উপস্থিত থাকে।

দ্বিতীয়ত, সাধারণ আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশ বেশি। সুগার-ফ্রি আলুতে GI কিছুটা কম হলেও, তা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

তৃতীয়ত, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ‘সুগার-ফ্রি’ শব্দটি অনেকাংশেই একটি বিপণন কৌশল। প্রকৃত অর্থে একে ‘লো-সুগার’ বা ‘লো-স্টার্চ’ আলু বলা বেশি যুক্তিযুক্ত।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি এই আলু খেতে পারেন?

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, আলু খাওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ না হলেও কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিমিতিবোধ। ‘সুগার-ফ্রি’ নাম শুনে বেশি পরিমাণে আলু খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। আলু ভাজা বা চিপসের পরিবর্তে সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে খেলে কিছুটা স্টার্চ কমানো যায়।

এছাড়াও, আলুর সঙ্গে প্রচুর ফাইবারযুক্ত সবজি বা শাক মিশিয়ে খেলে রক্তে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর হয়।

উপসংহার

সুগার-ফ্রি আলু নিঃসন্দেহে কৃষিবিজ্ঞানের একটি উন্নত উদ্ভাবন, যা স্বাদে কম মিষ্টি এবং সাধারণ আলুর তুলনায় কিছুটা ভালো বিকল্প। তবে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ‘ইচ্ছেমতো খাওয়ার ছাড়পত্র’ নয়। তাই এই আলু খাদ্যতালিকায় রাখার আগে নিজের রক্তে শর্করার মাত্রা ও চিকিৎসকের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক