জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্য ও বৃহস্পতিকে দুই মহাশক্তিশালী ও শুভ গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূর্য প্রতিনিধিত্ব করে আত্মশক্তি, নেতৃত্ব, সম্মান ও কর্তৃত্বকে; অন্যদিকে বৃহস্পতি জ্ঞান, ধর্ম, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির কারক। এই দুই গ্রহ যখন একে অপরের সঙ্গে পঞ্চম বা নবম অবস্থানে থেকে প্রায় ১২০ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে, তখন সৃষ্টি হয় বিশেষ শুভ যোগ—‘নবপঞ্চম যোগ’।
২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সূর্য ও বৃহস্পতির এমন শুভ অবস্থান এক শক্তিশালী রাজযোগের সৃষ্টি করছে। জ্যোতিষীদের মতে, এর প্রভাবে বহু রাশির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও তিনটি রাশির জন্য এটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
মিথুন রাশি: ক্যারিয়ারে অভাবনীয় সাফল্য
মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই সময়টি হতে পারে জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায়। কর্মক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা ও পরিশ্রম ঊর্ধ্বতনদের নজরে আসবে। পদোন্নতি বা নতুন দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো।
যারা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য সময়টি অত্যন্ত অনুকূল। বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা বিনিয়োগ থেকেও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক মর্যাদা দৃঢ় হবে।
তুলা রাশি: সম্পর্ক ও সম্মানে নতুন আলো
তুলা রাশির ক্ষেত্রে নবপঞ্চম যোগ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। দীর্ঘদিনের কোনো আইনি জটিলতা বা পারিবারিক অশান্তি মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দাম্পত্য ও পার্টনারশিপে বোঝাপড়া বাড়বে।
ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বিনিয়োগ বা অংশীদারিত্ব লাভজনক হতে পারে। সামাজিক সম্মান ও প্রভাব বাড়বে। নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা আসবে এবং আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
বৃশ্চিক রাশি: আর্থিক সমৃদ্ধি ও নেতৃত্বের বিকাশ
বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য এই রাজযোগ আর্থিক দিক থেকে বিশেষ শুভ। পৈতৃক সম্পত্তি বা পুরনো বিনিয়োগ থেকে বড় লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যের প্রভাবে নেতৃত্বের গুণ প্রকাশ পাবে, আর বৃহস্পতির কৃপায় বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা বাড়বে।
পারিবারিক জীবনে শান্তি ফিরে আসবে। কোনো শুভ অনুষ্ঠান বা সুখবরের সম্ভাবনাও প্রবল। সমাজে মর্যাদা ও প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।
নবপঞ্চম যোগের শুভ ফল বাড়াতে কী করবেন?
এই সময়ের ইতিবাচক শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিদিন সকালে সূর্য প্রণাম করা উপকারী। “ওম সূর্যায় নমঃ” মন্ত্র জপ করলে মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়।
প্রতি বৃহস্পতিবার ভগবান বিষ্ণুকে হলুদ ফুল ও প্রসাদ অর্পণ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দান করলে বৃহস্পতির কৃপা বজায় থাকে বলে জ্যোতিষ মত। নিয়মিত সৎকর্ম ও সদাচরণও শুভ ফলকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
সব মিলিয়ে, সূর্য ও বৃহস্পতির এই নবপঞ্চম যোগ ২০২৬ সালে বহু মানুষের জীবনে আশাবাদের নতুন আলো নিয়ে আসতে চলেছে—বিশেষ করে মিথুন, তুলা ও বৃশ্চিক রাশির জন্য এটি হতে পারে সাফল্য, অর্থ ও সম্মানের এক নতুন সূচনা।