কলকাতার বুকে ব্যস্ততম সরকারি হাসপাতালে ঘটে গিয়েছে নারকীয় ঘটনা। এক তরুণী চিকিৎসকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় সরব হয়েছে গোটা দুনিয়া। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলারা রাস্তায় নেমে এসেছেন। রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগ দিয়েছেন প্রতিবাদ মিছিলে৷ সাধারণ মানুষ থেকে একাধিক সেলিব্রিটিকে দেখা গিয়েছে প্রতিবাদ করতে। সকলের একটিই দাবি দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা।
আর এই প্রতিবাদে সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার থেকে অনেকেই তাদের মতন করে প্রতিবাদ করছেন। তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় সৈয়দ শামসিল। সম্প্রতি তিনি একটি নতুন ভিডিও পোস্ট করেছেন যা ব্যাঙ্গার্থক। যার সবকিছুতে মহিলাদের দোষ খোঁজেন তাদের উদ্দেশ্য করে বানানো হয়েছে এই ভিডিও। সেখানে তিনি নিজে অভিনয় করেছেন।
তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, “কিছু না কিছু ইঙ্গিত তো মেয়েটা দিয়েছিল। আমি সিওর। কী ড্রেস পরেছিল? আমি সিওর কোনও না কোনও টাইট ফিটিংস জামাকাপড়। এতজন ছিল, ওই কেন ওখানে গেল? ও কেন বাকিদের ইঙ্গিত দিচ্ছিল? পৃথিবীতে এত তো মেডিকেল কলেজ ছিল, মেয়েটা আরজি করেরই কেন ডাক্তার? আরেকটা জিনিস ভাবার আছে, মেয়েটা ডাক্তার কেন হল? এত কিছু তো হওয়া যায়, ডাক্তার কেন হল? এগুলো ভাবার আছে। মেয়েটা জন্মাল কেন? নাও তো জন্মে থাকতে পারত, তাও কেন জন্মাল?”
এরপর তাকে বলতে শোনা যায়, “মেয়েটার বাবা-মা কেন জন্মেছে? মেয়েটা ওইদিনই কেন ডিউটিতে গেছিল যেদিন ঘটনাটা হবে? মেয়েটা যখন জানত ঘটনাটা হবে, বেঁচে ছিল কেন? মেয়েটা মেয়ে হল কেন? ওটাও একটা ভুল ওর। মেয়েটা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল কেন? বাড়িতে থাকতে পারত! বাড়িতে থাকলে কি ওর সঙ্গে এসব হত? ওটাই ওর ভুল হয়ে গেছে। বাড়ি থেকে বেরনোটাই ভুল হয়ে গেছে। দেখ, চাইলে আমিও প্রোটেস্ট করতে পারি। কিন্তু আমি পরেরটায় প্রোটেস্ট করব। এটায় ভালোলাগছে না!”
ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ভিডিওটি। নির্যাতিতার দিকে আঙুল তোলা আমাদের সমাজে কোনো বিরল ঘটনা নয়। বরং নির্যাতিতাকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয় সমাজের চোখে। এমন উদাহরণ অতীতে দেখা গিয়েছে একাধিকবার। আর জি কর মেডিকেল হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ বলেন, “মেয়েটির একা সেমিনার হলে ঘুমানো উচিত হয়নি।” আর এই কথার প্রতিবাদে ভিডিও পোস্ট করেছেন ওই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার।
আরও পড়ুন,
*ঘুষের টাকা ভাগাভাগি করছে তিনি পুলিশকর্মী! ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই সাসপেন্ড

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.