রাত পোহালেই দেশের অর্থনীতির দিশা নির্ধারণকারী ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬–২৭ পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই নিয়ে টানা নবমবার বাজেট পেশ করতে চলেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদ—সবার নজর বাজেটের দিকেই। গত বছর আয়করে ছাড় দিয়ে মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর কী চমক থাকছে, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি অর্থবর্ষে সরকারের মূল লক্ষ্য আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে পরিমিত সংস্কার, পাশাপাশি পরিকাঠামো ও বৃহৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকেই নজর থাকবে। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি জ্যোতিষশাস্ত্রও বাজেট নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্যোতিষ মতে, বাজেট পেশের দিন গ্রহের অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রবিবার সূর্য, শনি, মঙ্গল, বুধ ও শুক্র—এই পাঁচটি প্রভাবশালী গ্রহের সংযোগ একটি শক্তিশালী জ্যোতিষ যোগ তৈরি করছে। সূর্য সরকারের নেতৃত্ব ও ক্ষমতার প্রতীক, যা প্রশাসনিক দৃঢ়তার ইঙ্গিত দেয়। শনি কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটায়। এর ফলে বাজেটে বাস্তবতা ও সংযমের ছাপ স্পষ্ট হতে পারে।
মঙ্গল গ্রহ উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর দিকে জোর দেওয়ার বার্তা দেয়। ফলে রাস্তা, রেল, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ার সম্ভাবনা থাকছে। বুধ গ্রহ বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা ও পণ্যমূল্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই শিক্ষা, ডিজিটাল পরিষেবা, স্টার্টআপ এবং বাণিজ্যিক খাতে কিছু ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি শুক্র গ্রহ আর্থিক ভারসাম্য ও ভোগব্যয়ের ইঙ্গিত দেয়, যা মধ্যবিত্তের স্বার্থরক্ষায় কিছু সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সামগ্রিক জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, বাজেটটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সব ক্ষেত্রে স্বস্তির খবর নাও আসতে পারে। কিছু পণ্য বা পরিষেবায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মা, অটো এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বিশেষ নজর দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, সরকার বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাস্তব আর্থিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সতর্ক সিদ্ধান্ত নিতে চাইবে। কর কাঠামোয় বড় বদলের বদলে অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও বিনিয়োগে জোর দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মধ্যবিত্ত, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা থাকবে। তবে সব স্তরকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা কঠিন—সে ইঙ্গিতও স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬–২৭ নিয়ে প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনই কিছু অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে। গ্রহ-নক্ষত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে সংযত, কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক এক বাজেটের। শেষ পর্যন্ত সেই পূর্বাভাস কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার উত্তর মিলবে বাজেট ঘোষণার সঙ্গেই।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.