‘আনলাকি ১৩’—এই ধারণা বহু যুগ ধরে মানুষের মনে গভীরভাবে প্রোথিত। অনেকেই মনে করেন, ১৩ সংখ্যাটি অশুভ। তাই এই দিনে অনেকে নতুন কাজ শুরু করতে চান না। এমনকি বহু হোটেলেও ১৩ নম্বর রুম রাখা হয় না। তবে যাঁদের জন্ম ১৩ তারিখে, তাঁদের পক্ষে এই তারিখ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে অনেকেই মনে করেন, তাঁরা বুঝি জন্মগতভাবেই দুর্ভাগ্য বয়ে চলেছেন।
কী বলছে সংখ্যাতত্ত্ব?
সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, ১৩ তারিখে জন্ম নেওয়ার পেছনে রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। বিশ্বাস করা হয়, পূর্বজন্মে যাঁরা পরিবারের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি, ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বা অন্যায় কাজে জড়িয়ে থেকেও শাস্তি পাননি, তাঁদেরই পরবর্তী জন্ম হয় ১৩ তারিখে। এই জন্মে তাঁদের পূর্বজন্মের কর্মফল ভোগ করতে হয়।
এই তত্ত্ব মতে, ১৩ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিদের জীবনে বাধা-বিপত্তি বেশি আসে। কাজের মাঝে প্রতিবন্ধকতা, হঠাৎ সমস্যা, দায়িত্বের চাপ—এসব যেন তাঁদের নিত্যসঙ্গী। জীবনের প্রতিটি ধাপ তাঁদের কাছে একেকটি লড়াইয়ের মতো মনে হয়।
ধৈর্যের পরীক্ষাই মূল চাবিকাঠি
সংখ্যাতত্ত্ব বলছে, এই তারিখে জন্মানো ব্যক্তিদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল ধৈর্য। শর্টকাট পথে সাফল্য পেতে গেলে ব্যর্থতার সম্ভাবনা বাড়ে। ধীরে, স্থিরভাবে ও দায়িত্ব নিয়ে এগোতে পারলেই জীবনে স্থিতি আসে। অর্থাৎ, ১৩ তারিখ কোনও শাস্তি নয়, বরং আত্মশুদ্ধির একটি সুযোগ বলেই মনে করা হয়।
বিজ্ঞানের মত কী?
তবে বাস্তবিক অর্থে ১৩ তারিখকে অশুভ প্রমাণ করার মতো কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। বহু জ্যোতিষীর মতেও এই ধারণার পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে না। এটি মূলত যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি বিশ্বাস, যা মানুষের মনে গভীরভাবে গেঁথে গেছে।
শেষ কথা
১৩ তারিখে জন্ম মানেই দুর্ভাগ্য—এমন ধারণা মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু ভাগ্য গড়ে ওঠে মানুষের কাজ, মনোভাব ও সিদ্ধান্তের উপর। তাই ১৩-কে ভয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই জীবনযুদ্ধে এগিয়ে চলাই হতে পারে প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.