পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পাশাপাশি, দেড় কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় আগামী দিনে আরও নাম যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যাঁদের ফর্মে অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের এসআইআর হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর হিয়ারিং পর্ব চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে। হিয়ারিংয়ে উপস্থিত থাকবেন ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO)। কমিশনের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়াতেই ভোটারদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নির্দিষ্ট দিনে হিয়ারিংয়ে যেতে না পারলে কি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে যাবে?
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও ভোটার যদি উল্লেখিত দিনে শুনানিতে হাজির হতে না পারেন, তবে সঙ্গত কারণ দেখালে তাঁকে পরবর্তীতে আবার সময় দেওয়া হবে। অর্থাৎ, একদিনের অনুপস্থিতির জন্য সরাসরি নাম বাতিল করা হবে না।
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৩ জন ভোটারের তথ্যে কোনও না কোনও অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে। তবে কমিশনের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, টেকনিক্যাল ত্রুটি, বিএলও বা অ্যাপের ভুল বাদ দিলে এই সংখ্যা নেমে আসতে পারে প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজারে। এর আগেই খসড়া তালিকা থেকেই ৫৮ লাখ নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৭.৬ শতাংশ। বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে অধিকাংশই মৃত, কিছু স্থানান্তরিত, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ফর্মে ধরা পড়া অসঙ্গতির ধরনও নানাবিধ। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে—
ভোটারের বাবা ও মায়ের নাম এক,
বাবা ও সন্তানের বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম,
আবার কোথাও বয়সের ফারাক ৫০ বছরের বেশি,
দাদু-দিদা ও নাতি-নাতনির বয়সের ফারাক অস্বাভাবিকভাবে কম,
অনেক ফর্মে বাবার নামের গরমিল,
এমনকি ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনও কয়েক লক্ষ।
আরও পড়ুন
আমেরিকার ভারী উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাচ্ছে ISRO-র ‘বাহুবলি’ রকেট LVM3
এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাবা-মায়ের নাম সংক্রান্ত বহু ভুল ডেটা এন্ট্রির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে, যার জন্য দায়ী বিএলও-রা, ভোটাররা নন। তবুও সব মিলিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে কমিশন কড়া যাচাই প্রক্রিয়ার পথে হাঁটছে।
আরও পড়ুন
চেন্নাই থেকে চম্পারণ: ৩০ ফুটের, ১.৮ লক্ষ কেজির বিশাল শিবলিঙ্গে দেশজুড়ে ভক্তির জোয়ার
সবশেষে কমিশনের বার্তা স্পষ্ট—হিয়ারিংয়ে ডাক পেলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট দিনে যেতে না পারলেও, উপযুক্ত কারণ জানালে ভোটারদের ন্যায্য শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে এবং তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.