গ্রীষ্মকাল শুরু হতেই ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ভারতীয় রেলওয়ে কলকাতা থেকে ডিব্রুগড় পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা করেছে। এই ট্রেনটি চলার ফলে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) সহ বহু জায়গায় যাতায়াত আরও সহজ হবে। বিশেষ করে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।

রেলের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে এই স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা চালানো হবে। মূলত গ্রীষ্মের ভ্রমণ মরসুমে বাড়তি ভিড় কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কোন কোন দিনে কলকাতা থেকে ছাড়বে ট্রেন
কলকাতা থেকে ডিব্রুগড়গামী স্পেশাল ট্রেন (নম্বর ০৫৯৩১) এপ্রিল মাসে ৬, ১৩, ২০ এবং ২৭ তারিখে যাত্রা শুরু করবে।
মে মাসে ট্রেনটি চলবে ৪, ১১, ১৮ ও ২৫ তারিখে।
এর পাশাপাশি জুন মাসে ১ তারিখেও এই ট্রেন পরিষেবা পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ মোট নয়টি দিনে, প্রতি সোমবার ভোররাতে কলকাতা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে।
ডিব্রুগড় থেকে ফেরার সূচি
ফিরতি পথে ডিব্রুগড় থেকে কলকাতার উদ্দেশে ট্রেন চলবে এপ্রিল মাসে ৪, ১১, ১৮ ও ২৫ তারিখে।
মে মাসে পরিষেবা থাকবে ২, ৯, ১৬, ২৩ ও ৩০ তারিখে।
এই সূচি অনুযায়ী যাত্রীরা আগে থেকেই নিজেদের ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারবেন।
ট্রেনের সময়সূচি
রেলের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, কলকাতা থেকে ট্রেনটি রাত ২টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে পরের দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডিব্রুগড় পৌঁছবে।
যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন নিউ জলপাইগুড়িতে ট্রেনটি দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে পৌঁছবে এবং প্রায় ১০ মিনিট সেখানে থামবে। ফলে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য এই ট্রেনটি বেশ সুবিধাজনক হবে।
অন্যদিকে, ফেরার সময় ডিব্রুগড় থেকে ট্রেনটি শনিবার বিকেল ৫টায় ছাড়বে। এরপর রবিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছবে এবং সেখানেও প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়াবে। শেষ পর্যন্ত কলকাতায় পৌঁছবে রাত সাড়ে ১২টার সময়।
যাত্রাপথে যেসব স্টেশনে থামবে
এই স্পেশাল ট্রেনটি পথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামবে। এর মধ্যে রয়েছে—
ব্যান্ডেল, আজিমগঞ্জ, মালদা টাউন, নিউ জলপাইগুড়ি, ধেমাজি, উত্তর লখিমপুর, হারমুটি জংশন, বিশ্বনাথ চারিআলি, রঙ্গাপাড়া নর্থ, উদালগুড়ি, রঙ্গিয়া, নিউ বঙ্গাইগাঁও, কোকরাঝাড়, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ কোচবিহার, আলুয়ারাবাড়ি রোড, কিষানগঞ্জ, বারসোই, নিউ ফারাক্কা, জঙ্গিপুর রোড, কাটোয়া, নবদ্বীপধাম এবং নৈহাটি জংশন।
এই বিস্তৃত স্টপেজ তালিকা থাকার ফলে বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোচের বিন্যাস
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের চাহিদা মাথায় রেখে ট্রেনটিতে বিভিন্ন শ্রেণির কোচ রাখা হয়েছে।
ট্রেনটিতে থাকবে—
এসি ২-টিয়ার: ২টি কোচ
এসি ৩-টিয়ার: ৬টি কোচ
স্লিপার ক্লাস: ৮টি কোচ
জেনারেল কোচ: ৪টি
পাওয়ার কার: ১টি
এলএসএলআরডি কোচ: ১টি
এই ব্যবস্থা থাকার ফলে বিভিন্ন বাজেট ও চাহিদার যাত্রীরা সহজেই টিকিট বুক করতে পারবেন।
যাত্রীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ট্রেন
গ্রীষ্মের ছুটি, পর্যটন এবং বাড়ি ফেরা—সব মিলিয়ে এই সময়ে ট্রেনে ভিড় বাড়ে। তাই বিশেষ ট্রেন চালু হওয়ায় অনেক যাত্রীই স্বস্তি পাবেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ বা অসমের দিকে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা বেশ কার্যকর হতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.