এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার আর সময় নেই বললেই চলে। হাতে কার্যত ১০ দিনের কম সময়। ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধনী (SIR) চলছে পুরোদমে। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ফর্ম, সংগ্রহও চলছে দ্রুতগতিতে। কিন্তু এই ব্যস্ততার মধ্যেই উঠে এল এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—কিছু মানুষ আছেন যাঁদের এনুমারেশন ফর্ম পূরণই করতে হবে না। তবুও তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয় ভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে খসড়া ভোটার তালিকায়!
কারা এই ‘চিহ্নিত ভোটার’ বা Marked Elector?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ভোটারের নাম আগে থেকেই ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত রয়েছে এবং যাঁদের পরিচয় নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিশেষ ভাবে চিহ্নিত—তাঁদের বলা হয় ‘চিহ্নিত ভোটার’ (Marked Elector)।
এই তালিকায় সাধারণত থাকেন—
*দেশের প্রধানমন্ত্রী
*বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী
*কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রীরা
*জনপ্রতিনিধি ও সাংবিধানিক পদাধিকারীরা
*উচ্চপদস্থ বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তা
*শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, অভিনয়, খেলাধুলা ও জনসেবার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব
এঁদের ভোটার তথ্য ইতিমধ্যেই কমিশনের ডেটাবেসে বিশেষ ভাবে ট্যাগ করা থাকে। ফলে ফর্ম জমা না দিলেও তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয় খসড়া ভোটার তালিকায়।
তবে যদি তাঁদের তথ্য নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি বা ত্রুটি ধরা পড়ে, সে ক্ষেত্রে কমিশন প্রয়োজনীয় নথি চাইতে পারে।
রাজ্যে এনুমারেশন ফর্ম বিলি প্রায় শেষ পর্যায়ে
শনিবার রাত পর্যন্ত কমিশনের হিসাব অনুযায়ী—
৭ কোটি ৬৪ লক্ষ মানুষের কাছে ফর্ম পৌঁছে গিয়েছে
মোট ভোটার সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি
অর্থাৎ মাত্র ২ লক্ষ ফর্ম বিলি করা বাকি
ইতিমধ্যেই জমা পড়া ফর্মের ৪১.২% ডিজিটাইজ়ড
প্রায় ৩ কোটি ১৫ লক্ষ ফর্ম ডিজিটাইজ়েশন সম্পন্ন
ফর্ম বিলি ও জমা দেওয়ার কাজের মেয়াদ ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর—মোট এক মাস।
১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে এসআইআর-এর দ্বিতীয় দফা চলছে
বিহারের পরে দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া।
এটি এখন চলছে দেশের আরও ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন: ৪ ডিসেম্বর
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ: ৯ ডিসেম্বর
শেষ মুহূর্তের টিপস — কারা অবশ্যই ফর্ম দেবেন?
যাঁদের তথ্য পরিবর্তন হয়েছে, যেমন—
ঠিকানা বদল
বয়স/নাম সংশোধন
নতুন ভোটার হিসেবে ১৮+ হওয়া
অন্য রাজ্য/জেলা থেকে স্থানান্তর
তাঁদের অবশ্যই ফর্ম জমা দিতে হবে।
সারকথা
চাপ বাড়লেও কিছু ভোটারের জন্য চিন্তার কিছু নেই—কমিশনের নিয়মে তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবেন। তবে সাধারণ ভোটারদের জন্য সময় এখন মূল্যবান—ফর্ম নিয়ে দেরি করলে সমস্যা হতে পারে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.