২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর, বছরের একেবারে শেষের দিকে দ্বিতীয়বার মা হন জনপ্রিয় কমেডিয়ান ভারতী সিং। প্রথম সন্তানের পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, এবার তিনি কন্যাসন্তানের মা হতে চান। এমনকি মজার ছলেও বলেছিলেন, যতদিন না মেয়ে হবে ততদিন তিনি আবার চেষ্টা করবেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারও পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ভারতী। ছেলের জন্মের সুখবর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি।
মেয়ে না হওয়ার আক্ষেপ এর আগেও বহুবার শোনা গিয়েছে ভারতীর মুখে। নানা সাক্ষাৎকার ও ভ্লগে তিনি অকপটে জানিয়েছিলেন, একটি কন্যাসন্তান তাঁর খুব পছন্দের। কিন্তু মা হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই যেন সেই ভাবনায় বড়সড় বদল এল। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতেই ধরা পড়েছে ভারতীর এই নতুন মনোভাব।
ভিডিওতে ভারতী বলতে শোনা যায়,
‘ভাগ্যিস আমার কন্যা সন্তান হয়নি। যাদের মেয়ে হয় তাদের মন অনেক অনেক শক্ত হয়।’
তিনি আরও বলেন, একটি মেয়েকে জন্ম দিয়ে ছোট থেকে বড় করা, তারপর একদিন বিয়ে দিয়ে অন্যের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার যন্ত্রণাটা তিনি কোনওভাবেই সহ্য করতে পারতেন না।
ভারতীর কথায় উঠে আসে মায়ের মনের গভীর আবেগ। তিনি জানান, তাঁর ছেলে একবার মজা করে বলেছিল যে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। সেই কথায়ই নাকি তাঁর মনে হয়েছিল পুরো পৃথিবীটা শূন্য হয়ে গেল। ভারতীর কথায়, যদি তাঁর মেয়ে হতো, তবে তো সমাজের নিয়ম মেনে একদিন তাকে বিয়ে দিতেই হতো—সেই বিচ্ছেদের কষ্ট তিনি ভাবতেই পারেন না।
ভিডিওতে দেখা যায়, আবেগঘন মুহূর্তে ভারতী ছেলেকে অনুরোধ করেন,
‘তুমি যেন কোনওদিন বলো না যে তুমি বাড়ি থেকে চলে যাবে।’
মায়ের কথা শুনে ছেলেও সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়, ‘না, আমি আর কোনওদিন ব্যাগ গুছানোর কথা বলবো না।’ এই আবেগী কথোপকথনের মাধ্যমেই শেষ হয় সেই ভিডিও, যা ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের মন ছুঁয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হওয়ার খবরও নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন ভারতী সিং। প্রেগনেন্সির পুরো জার্নি তিনি ভ্লগের মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। ছোট ছোট ভিডিওতে ধরা পড়েছে তাঁর মাতৃত্বের নানা মুহূর্ত। এমনকি সন্তানের জন্মের পর হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষারত চিত্রশিকারিদের সঙ্গেও হাসিমুখে দেখা করতে ভোলেননি তিনি।
মেয়েসন্তান নিয়ে দীর্ঘদিনের ইচ্ছা থাকলেও, এখন মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার পর ভারতীর এই বদলে যাওয়া অনুভূতি অনেক মা-বাবার মনেই নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.