কলকাতা-সহ সারা রাজ্য জুড়ে শীতের দাপট ক্রমশ বাড়ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও নামতে পারে। এই শীতকাল শুধু সাধারণ মানুষের জন্য নয়, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল সময়। কারণ গর্ভাবস্থায় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। তার উপর শুষ্ক ঠান্ডা আবহাওয়া ও বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়।
শীতে অন্তঃসত্ত্বাদের কী কী সমস্যা হতে পারে?
শীতের সময়ে শরীরে জলের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। কম তেষ্টা পাওয়ার কারণে অনেকেই প্রয়োজন মতো জল পান করেন না। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থায় ইমিউনিটি কম থাকায় সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যালার্জি দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়ায় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও দেখা দেয়, যার ফলে গা ব্যথা, হাত-পায়ে যন্ত্রণা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে।
প্রচণ্ড ঠান্ডায় গাঁটে ব্যথা, পেশিতে টান ধরা বা অসাড়ভাবও হতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়াও শীতকালে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নোরোভাইরাসজনিত ডায়েরিয়া বা ‘স্টমাক ফ্লু’-এর প্রকোপ বাড়ে, যা হবু মায়েদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শীতে নিজেকে সুস্থ রাখবেন কী ভাবে?
মাস্ক ও গরম পোশাক বাধ্যতামূলক:
বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। গরম পোশাক পরে নাক-মুখ ঢেকে বেরোনো উচিত। ভিড় বা জমায়েত যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভাল।
হালকা শরীরচর্চা ও হাঁটাচলা:
শীতের কারণে একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া ঠিক নয়। বাড়ির মধ্যেই হালকা হাঁটাচলা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চা করলে শরীর ও মন দু’টোই চনমনে থাকে।
শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম:
প্রাণায়াম, অনুলোম-বিলোমের মতো শ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায় এবং অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিবর্তন:
শীতকালে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে প্রচুর সতেজ ফল ও সবুজ শাকসবজি। প্রক্রিয়াজাত, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল যেমন পেয়ারা, আমলকি, কমলালেবু রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। রাতে ঈষদুষ্ণ দুধে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন।
পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার:
ঠান্ডা জল এড়িয়ে ঈষদুষ্ণ জল পান করুন। সম্ভব হলে জল ফুটিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সঙ্গে স্যুপ বা অন্যান্য তরল খাবার রাখুন।
রোদ পোহাতে ভুলবেন না:
প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট রোদে বসলে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়।
রুম হিটার ব্যবহারে সতর্কতা:
রুম হিটার বাতাস শুষ্ক করে দেয়, যা ত্বক ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই হিটার ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উপসংহার
শীতকাল হবু মায়েদের জন্য একটু বেশি যত্নের সময়। সামান্য সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই এই সময়ে মা ও গর্ভস্থ সন্তানের সুস্থতার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।