শীত পাততাড়ি গুটোতে শুরু করেছে। সকাল-বিকেলে আর সেই কনকনে ঠান্ডা নেই, বেলা বাড়তেই গরমের আমেজ। সরস্বতী পুজোর পর থেকেই শহরের আবহাওয়ায় বসন্তের ছোঁয়া স্পষ্ট। তবে এই ঋতু বদলের সময়টাই শরীরের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তাপমাত্রার ওঠানামার সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে নানা ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া। ফলে এই সময়েই ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে শুকনো কাশি, অ্যালার্জি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা।
চিকিৎসকদের মতে, শীতের শেষভাগে ও বসন্তের শুরুতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ব্রঙ্কাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রণবীর ভৌমিক জানাচ্ছেন, বাতাসে থাকা ধুলো-ধোঁয়া ও দূষিত কণার সঙ্গে ভাইরাস শরীরে ঢুকে শ্বাসনালির মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ তৈরি করে। তার ফলেই শুরু হয় শ্বাস নিতে কষ্ট, গলা ব্যথা ও একটানা শুকনো কাশি। ধূমপানকারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। কাশির সঙ্গে শ্লেষ্মা বেরোনো, রাতে কাশির দাপট বেড়ে যাওয়া ব্রঙ্কাইটিসের সাধারণ লক্ষণ।
ডায়াবিটিস বা ফুসফুসের পুরনো রোগ থাকলে ব্রঙ্কাইটিস মারাত্মক আকার নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতেও হতে পারে।
এই সময় অ্যালার্জির প্রকোপও চোখে পড়ার মতো। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডা. অরুণাংশু তালুকদার জানান, তাপমাত্রা বদল হলেই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস দেখা দেয়। নাগাড়ে হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ দিয়ে জল পড়া ও চোখের চারপাশে চুলকানি তার লক্ষণ। কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে র্যাশ, চুলকানি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে, যাকে অ্যাঞ্জিয়ো ইডিমা বলা হয়।
কীভাবে সুস্থ থাকবেন?
বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করুন, শিশুদের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করুন।
অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, ব্রঙ্কাইটিসে এর ভূমিকা খুব সীমিত।
চিকিৎসকের পরামর্শে ইনহেলার ও গরম জলের ভাপ উপকারী।
তিন সপ্তাহের বেশি কাশি বা গলা ব্যথা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান।
বাইরের প্রক্রিয়াজাত ও ফ্রোজ়েন খাবার এড়িয়ে চলুন, ধূমপানে রাশ টানুন।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার—আমলকি, লেবু, কমলা রাখুন খাদ্যতালিকায়।
আদা, গোলমরিচ, লবঙ্গ ও দারচিনির চা অ্যালার্জি কমাতে সাহায্য করে।
রোজ সকালে এক চামচ মধু খেলে উপকার মিলতে পারে।
বয়স্করা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার টিকা নিতে পারেন।
ঋতু বদলের এই সময়টায় একটু বাড়তি সতর্কতাই আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখতে পারে।