শীতকাল এলেই ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে দেখা দেয় রুক্ষতা, ফাটা ভাব ও নিষ্প্রাণতা। ঠান্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতা এবং গরম জল ব্যবহার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়। ফলে অনেকেই এই সময়ে নানা কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম ও লোশনের ওপর ভরসা করেন, যা অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের ক্ষতিই করে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর।
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, ঘরোয়া উপকরণে তৈরি ফেসপ্যাক শুধু ত্বকের উপরের স্তর নয়, ভিতর থেকেও ত্বককে পুষ্ট করে। এমনই এক কার্যকর ফেসপ্যাক হলো ‘উইন্টার গ্লো ফেসপ্যাক’, যা শীতকালে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
এই ফেসপ্যাকে ব্যবহৃত মসুর ডাল ও ওটস ত্বককে হালকা এক্সফোলিয়েশন দেয়। মৃত কোষ দূর করে ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে। জাফরান ত্বকের রঙ সমান করতে সাহায্য করে এবং নিস্তেজ ভাব দূর করে। বেসন ও চালের গুঁড়ো ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে ত্বককে সতেজ রাখে।
হলুদ প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী উপাদান হিসেবে পরিচিত। এটি প্রদাহ কমায়, ব্রণ ও দাগছোপ হালকা করে। আলুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচের মতো কাজ করে, ত্বকের কালচে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। দই ত্বকে আর্দ্রতা জোগায় ও শীতের শুষ্কতায় হারিয়ে যাওয়া ময়েশ্চার ফিরিয়ে আনে।
এই সব উপাদান একসঙ্গে মিশে ত্বকের জন্য এক পরিপূর্ণ যত্নের সমাধান তৈরি করে। নিয়মিত সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে ত্বক হয় নরম, মসৃণ ও প্রাণবন্ত। শীতকালে যাঁরা ত্বকের রুক্ষতা, মেকআপ ঠিকমতো না বসা বা টানটান ভাবের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এই ফেসপ্যাক অত্যন্ত উপকারী।
ফেসপ্যাকটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখলে ত্বক ধীরে ধীরে উপাদানগুলির গুণ শোষণ করে নেয়। ধুয়ে ফেলার পর মুখে আসে সতেজতা ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। তবে প্রত্যেকের ত্বক আলাদা হওয়ায় প্রথমবার ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। কোনও অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করাই শ্রেয়।
ঘরোয়া এই প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহারে ধীরে ধীরে ত্বকের গুণমান উন্নত হয় এবং শীতকালেও ত্বক থাকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।