আজকের ব্যস্ত জীবনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ওজন বৃদ্ধি একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পেটের মেদ বা ভুঁড়ি কমানো সবচেয়ে কঠিন কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। এর সঙ্গে যুক্ত হয় হাঁটুর ব্যথা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা ও কম বয়সেই আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, স্থূলত্বই এসব সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।
অনেকে ওষুধের ওপর নির্ভর করলেও, প্রকৃত সমাধান লুকিয়ে রয়েছে যোগাসনের মধ্যেই। নিয়মিত যোগাভ্যাস শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ করে তোলে। তেমনই একটি কার্যকর যোগাসন হল প্রসারিত পদোত্তোনাসন। এই আসন নিয়মিত অভ্যাস করলে যেমন পেটের মেদ কমে, তেমনই হাঁটু, ঊরু ও নিতম্বের পেশি শক্তিশালী হয়।
প্রসারিত পদোত্তোনাসন কীভাবে করবেন?
প্রথমে যোগ ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। পিঠ থাকবে টানটান।
দুই পায়ের মধ্যে যথেষ্ট ফাঁক রাখুন। দুই হাত রাখুন কোমরের পিছনে।
এবার ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে শরীর সামনের দিকে ঝোঁকান।
দুই হাতের তালু মাটি স্পর্শ করবে।
হাঁটু না ভেঙে পিঠ যতটা সম্ভব উপরে তুলুন।
শেষে মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে দিন এবং স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস বজায় রেখে অন্তত ৩০ সেকেন্ড থাকুন।
শুরুতে এই আসন করতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। তবে নিয়মিত অভ্যাসে শরীর ধীরে ধীরে মানিয়ে নেবে।
এই যোগাসনের উপকারিতা
✔️ পেটের মেদ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর
✔️ ঊরু, নিতম্ব ও কাফ মাসলের ভালো স্ট্রেচিং হয়
✔️ হাঁটুর ব্যথা ও গাঁটের যন্ত্রণা কমে
✔️ মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
✔️ কাঁধ ও পিঠের পেশি শক্তিশালী হয়
✔️ সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়
কারা এই আসন করবেন না?
মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হলে
স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে
অন্তঃসত্ত্বা নারীরা প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া
সঠিক নিয়মে ও নিয়মিত প্রসারিত পদোত্তোনাসন অভ্যাস করলে ওজন কমানোর পাশাপাশি হাঁটুর ব্যথা থেকেও মুক্তি মিলতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিন সকালে কিছুটা সময় যোগাসনের জন্য রাখাই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.