বলিউড অভিনেত্রী Zareen Khan-এর জীবনে নেমে এলো গভীর শোকের ছায়া। তাঁর মা Parveen Khan বুধবার (৮ এপ্রিল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি, অবশেষে সব লড়াই শেষ করে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন।
অভিনেত্রীর টিমের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, পারভিন খান তাঁর দুই মেয়ে—জারিন এবং সনা—কে রেখে চিরবিদায় নিয়েছেন।
শেষকৃত্য সম্পন্ন মুম্বইয়ে
৮ এপ্রিল সকালেই মুম্বইয়ের ভার্সোভা এলাকায় সম্পন্ন হয়েছে পারভিন খানের শেষকৃত্য। ঘনিষ্ঠ পরিবার ও কাছের মানুষদের উপস্থিতিতে শেষ বিদায় জানানো হয় তাঁকে। মায়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তমহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
মায়ের জন্য লড়াই করছিলেন জারিন
মায়ের অসুস্থতার সময়টায় সবসময় পাশে ছিলেন জারিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই তিনি মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা জানাতেন এবং ভক্তদের কাছে প্রার্থনা চাইতেন। এমনকি, মায়ের সেবাযত্নে নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত রাখতে একাধিকবার কাজ ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও দূরে সরে গিয়েছিলেন।
তবে ঠিক কোন রোগে ভুগছিলেন তাঁর মা, সেই বিষয়ে কখনও প্রকাশ্যে কিছু জানাননি অভিনেত্রী।
দীর্ঘ চিকিৎসা, একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি
পারভিন খানের শারীরিক সমস্যা নতুন নয়। ২০১৬ সালে তাঁর হার্ট সার্জারি হয়েছিল। সেই সময় শুটিং ছেড়ে মায়ের পাশে ছিলেন জারিন।
এরপর ২০২২ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রায় ছয় মাস পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও শেষরক্ষা হল না।
বাবার পর আবার ভেঙে পড়া পরিবার
এর আগেই জীবনের বড় আঘাত পেয়েছিলেন জারিন। ছোটবেলাতেই তাঁর বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান। সেই কঠিন সময়ে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল তাঁকে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, কীভাবে এক সন্ধ্যায় তাঁদের জীবন পুরো বদলে যায়। সংসারে অর্থকষ্ট শুরু হয়, আর মায়ের চোখের জল দেখে তিনি নিজেই শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। খুব অল্প বয়সে কল সেন্টারে কাজ শুরু করেন, যাতে পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে পারেন। তখন তাঁর বোন পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল।
এখন পাশে শুধু বোন
মায়ের মৃত্যুর পর জারিনের জীবনে এখন একমাত্র ভরসা তাঁর বোন। পরপর দুই অভিভাবককে হারিয়ে নিঃসন্দেহে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী।
জীবনের এত প্রতিকূলতার মধ্যেও যেভাবে তিনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, তা তাঁর মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ। তবে এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত শোকই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.