আমাদের চারপাশে এমন বহু মানুষের সঙ্গে প্রতিদিনই দেখা হয়, যাঁরা মুখে অত্যন্ত মিষ্টি কথা বলেন, নিজেকে নিঃস্বার্থ ও সাহায্যপ্রবণ হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায়, এই সৌজন্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে স্বার্থপরতা কিংবা খারাপ উদ্দেশ্য। এমন মুখোশধারী মানুষদের চিনে নেওয়া সহজ কাজ নয়। তবে জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, রাশিচক্রের কিছু জাতক-জাতিকার মধ্যে জন্মগতভাবেই এমন এক ক্ষমতা থাকে, যার সাহায্যে তাঁরা খুব দ্রুত এই ভান করা মানুষদের আসল রূপ ধরে ফেলতে পারেন।
এই মানুষরা শুধু কথাবার্তার উপর নির্ভর করেন না। বরং সামনের ব্যক্তির আচরণ, চোখের ভাষা, অঙ্গভঙ্গি এবং পরিস্থিতির সূক্ষ্ম পরিবর্তন গভীরভাবে লক্ষ্য করেন। ফলে প্রতারণা বা কৃত্রিম ব্যবহার তাঁদের চোখ এড়ায় না। জ্যোতিষ মতে, বিশেষ করে চারটি রাশির মানুষ এই বিষয়ে একধাপ এগিয়ে।
মেষ রাশি
মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বগুণে ভরপুর হন। তাঁরা খুব দ্রুত মানুষের মানসিক অবস্থান বুঝে নিতে পারেন। কেউ যদি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁদের সঙ্গে মেশেন, তাহলে আচরণের সামান্য পরিবর্তনেই মেষ রাশির মানুষ তা আঁচ করে ফেলেন। ফলে তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ভান করে থাকা প্রায় অসম্ভব।
সিংহ রাশি
সিংহ রাশির মানুষ স্পষ্টবাদী এবং ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন। মিথ্যা ও ভণ্ডামি তাঁরা একেবারেই সহ্য করেন না। কেউ অভিনয় করে ভাল মানুষ সাজতে চাইলে সিংহ রাশির জাতক-জাতিকারা খুব দ্রুত সেই মুখোশ খুলে ফেলতে পারেন। শুধু ব্যক্তির আচরণ নয়, আশপাশের নেতিবাচক পরিবেশও তাঁদের দৃষ্টি এড়ায় না।
ধনু রাশি
ধনু রাশির মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিশ্লেষণধর্মী। তাঁরা মানুষের শরীরী ভাষা এবং আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বন্ধুত্বের আড়ালে কেউ ক্ষতি করার চেষ্টা করলে ধনু রাশির জাতক-জাতিকারা ধীরে ধীরে সেই উদ্দেশ্য বুঝে নেন এবং ঝামেলা এড়িয়ে নিজেকে সরিয়ে নেন।
কুম্ভ রাশি
কুম্ভ রাশির মানুষ সহজে কাউকে বিশ্বাস করেন না। স্বাধীনচেতা স্বভাবের কারণে তাঁরা সবসময় সতর্ক থাকেন। কেউ অকারণে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা দেখালে প্রথমেই তাঁদের সন্দেহ জাগে। এরপর নীরবে সেই ব্যক্তির উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করে সত্য বুঝে গেলে তাঁরা চুপচাপ দূরত্ব তৈরি করেন।
এই চার রাশির মানুষের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল—তাঁরা আবেগের বদলে অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টিকে গুরুত্ব দেন। তাই জীবনের পথে চলতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা প্রতারণা ও মানসিক আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। জ্যোতিষ মতে, এই তীক্ষ্ণ উপলব্ধিকে অনেকেই ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। তবে মনে রাখতে হবে, রাশির পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও একজন মানুষের বিচারবোধ গড়ে তোলে।