আজকাল অল্প বয়সেই মুখে বলিরেখা, ত্বকের শুষ্কতা ও জেল্লা কমে যাওয়ার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলেন, নামী ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার করেন, এমনকি স্যালোঁতেও যান। তবুও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। এর মূল কারণ লুকিয়ে রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে।
ত্বক সুস্থ ও টানটান রাখতে কোলাজেনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিকভাবেই কোলাজেন উৎপাদন কমে যায়। কিন্তু কিছু খাবার এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে দেয়। অজান্তেই আমরা এমন খাবার খাচ্ছি, যা ত্বকের ক্ষতি করছে, প্রদাহ বাড়াচ্ছে এবং অকালবার্ধক্য ডেকে আনছে।
১) উচ্চ মাত্রায় ফ্রুকটোজ়যুক্ত কর্ন সিরাপ
প্যাকেটবন্দি ঠান্ডা পানীয়, সোডা, বিস্কুট, কেক, সস্ ও বিভিন্ন ক্যানবন্দি খাবারে উচ্চ মাত্রায় ফ্রুকটোজ়যুক্ত কর্ন সিরাপ ব্যবহার করা হয়। এতে প্রাকৃতিক চিনি নয়, থাকে সিন্থেটিক সুইটনার। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের চিনি সাধারণ চিনির তুলনায় ত্বকের প্রায় ১০ গুণ বেশি ক্ষতি করে।
এই সিরাপ ত্বকের অভ্যন্তরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন ভেঙে দেয়, কোলাজেন নষ্ট করে এবং ত্বককে আড়ষ্ট ও প্রাণহীন করে তোলে। দীর্ঘদিন এই খাবার খেলে ত্বকের জেল্লা কমে যায় ও বলিরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে।
২) বার বার গরম করা রিফাইন্ড তেল
রাস্তার ধারের ভাজাভুজির দোকানে বা ফাস্ট ফুডের স্টলে একই তেল বার বার গরম করে ব্যবহার করা হয়। এতে তেলের মধ্যে থাকা ভিটামিন ই পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
এর বদলে তৈরি হয় অক্সিডাইজড ফ্যাট, যা ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই প্রদাহই ত্বকের দ্রুত বার্ধক্যের অন্যতম কারণ। নিয়মিত এমন খাবার খেলে ত্বক নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে এবং বলিরেখা দ্রুত দেখা দেয়।
৩) অতিরিক্ত ভাজাভুজি
মুচমুচে ভাজাভুজি যত বেশি তেলে ও বেশি সময় ধরে ভাজা হয়, তত বেশি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এই ধরনের খাবার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে দেয়। ফলে অকালেই চামড়া ঝুলে যায়, সূক্ষ্ম রেখা গভীর বলিরেখায় পরিণত হয়।
একবার ত্বকের ভিতর থেকে কোলাজেন ক্ষতিগ্রস্ত হলে, বাইরে থেকে দামি ক্রিম ব্যবহার করেও বিশেষ লাভ হয় না।
কী করবেন?
ত্বক ভালো রাখতে হলে প্রসাধনীর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। প্যাকেটবন্দি খাবার ও ভাজাভুজি কমিয়ে ফল, সবজি, বাদাম, পর্যাপ্ত জল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়। ত্বক ভালো থাকবে ভিতর থেকে, বয়সের ছাপও পড়বে অনেক দেরিতে।