ঋতুস্রাবের সময়ে তলপেটের ব্যথা অনেক নারীর কাছেই পরিচিত সমস্যা। কারও ক্ষেত্রে অস্বস্তি সামান্য হলেও, কারও কারও ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হতে পারে। এই সময়ে অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার উপায় খোঁজেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ মশলা এই অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঋতুস্রাবের সময় শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের একটি রাসায়নিক উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায়। এই উপাদান জরায়ুর পেশিকে বারবার সংকুচিত করে, যার ফলে তলপেটে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভূত হয়। পাশাপাশি প্রদাহও বাড়তে পারে, যা যন্ত্রণার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করে।
এই পরিস্থিতিতে জোয়ান, মৌরি ও দারচিনির মতো মশলা উপকারী হতে পারে বলে মনে করা হয়।

কোন মশলা কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
জোয়ান:
জোয়ানে থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে জরায়ুর অতিরিক্ত সংকোচন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।
মৌরি:
মৌরিতে থাকা অ্যানিথোল নামের প্রাকৃতিক যৌগ জরায়ুর পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে তলপেটের টান ও ব্যথা কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।
দারচিনি:
দারচিনি তার প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক গুণের জন্য পরিচিত। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি জরায়ুর পেশির অস্বস্তিও কিছুটা লাঘব করতে পারে।
ঘরেই তৈরি করুন ভেষজ পানীয়
উপকরণ
*১ চা-চামচ জোয়ান
*১ চা-চামচ মৌরি
*২ ইঞ্চি দারচিনি
*৪০০ মিলিলিটার জল
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে জোয়ান, মৌরি ও দারচিনি হালকা থেঁতো করে নিন, যাতে এর প্রাকৃতিক নির্যাস সহজে বের হয়। এরপর ৪০০ মিলিলিটার জলে এগুলি দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। জল অর্ধেক পরিমাণে নেমে এলে ছেঁকে একটি পাত্রে ঢেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।
কীভাবে পান করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পানীয় গরম অবস্থায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অন্তর অল্প অল্প করে পান করা যেতে পারে। একবারে বেশি পরিমাণে তৈরি করে রেখে প্রয়োজনমতো গরম করে খেলেও সুবিধা হয়।
মনে রাখবেন
যদিও এই ভেষজ পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে, তবে এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। যদি ঋতুস্রাবের ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়, বারবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.