বর্তমান সময়ে বন্ধ্যাত্ব বা ইনফার্টিলিটি ধীরে ধীরে একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। অনেক দম্পতি দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও সন্তানের মুখ দেখতে পারছেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত IVF-এর মতো চিকিৎসার সাহায্য নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, দেরিতে পরিবার পরিকল্পনা এবং কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।
গাইনিকোলজিস্টদের মতে, কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে যা মহিলাদের মা হতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। নিচে সেগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল।
১. দেরিতে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত
বর্তমান সময়ে অনেক মহিলা প্রথমে নিজের কেরিয়ার গড়ে তোলার দিকে মন দেন। ফলে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক সময় পিছিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের ডিম্বাণুর মান ও সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের পর ডিম্বাণুর গুণমান আগের মতো থাকে না। এর ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে এবং কখনও কখনও বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই পরিবার পরিকল্পনার সময় বয়সের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
২. AMH হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া
মহিলাদের শরীরে Anti-Müllerian Hormone (AMH) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন। এই হরমোন মূলত ডিম্বাণুর সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা দেয়। যদি এই হরমোনের মাত্রা কম থাকে, তাহলে তা বোঝায় যে ডিম্বাণুর রিজার্ভ কমে যাচ্ছে।
বর্তমানে অনেক মহিলার ক্ষেত্রেই AMH কম থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর পিছনে জিনগত কারণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সেটিও গর্ভধারণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজনের কারণে অনেক মহিলার শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
এর ফলে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় ডিম্বস্ফোটন ঠিকমতো না হওয়ায় গর্ভধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিয়মিত ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ধূমপানের প্রভাব
ধূমপান শুধুমাত্র ফুসফুস বা হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে না, এটি প্রজনন ক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ডিম্বাণুর গুণমান কমিয়ে দিতে পারে।
এছাড়াও ধূমপানের কারণে AMH হরমোনের মাত্রাও কমে যেতে পারে। এর ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায় এবং অনেক সময় বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও বাড়ে।
৫. এন্ডোমেট্রিওসিস
এন্ডোমেট্রিওসিস একটি জটিল স্ত্রীরোগ। এই সমস্যায় জরায়ুর ভেতরের আস্তরণে যে টিস্যু থাকে, সেটি শরীরের অন্য জায়গায় তৈরি হতে শুরু করে। ফলে তীব্র ব্যথা, অনিয়মিত মাসিক এবং অনেক সময় গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, এই রোগটি অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরা পড়ে না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরি।
কী করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তন করলে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। যেমন—
স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা
নিয়মিত শরীরচর্চা করা
ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা
অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানো
নিয়মিত গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া
এছাড়া, দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও যদি গর্ভধারণ না হয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। Continue Reading

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.