বড় কোনও অসুখ নেই, তবুও বাড়ির এক জন না এক জন প্রায়ই অসুস্থ—কারও জ্বর, কারও পেটখারাপ, কারও আবার হজমের সমস্যা বা সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এর নেপথ্যে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। আর এই দুর্বলতার অন্যতম কারণ হতে পারে আমাদের দৈনন্দিন রান্নাঘরের কিছু অভ্যাস ও জিনিস।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, হেঁশেলে থাকা কিছু খাবার ও উপকরণ অজান্তেই শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে এগুলি ব্যবহারে বাড়তে পারে ক্যানসার, হৃদ্রোগ থেকে শুরু করে পেটের গুরুতর অসুখের ঝুঁকি। তাই শরীরের কথা ভেবে এখনই রান্নাঘর থেকে এই ৫টি জিনিস বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
১) প্যাকেটজাত ও রেডি টু ইট ফুড
ব্যস্ত জীবনে অনেকেই রান্নার বদলে ভরসা রাখেন রেডি টু ইট বা প্রি-কুকড খাবারের উপর। কিন্তু এই খাবারগুলিতে অতিরিক্ত সোডিয়াম, রাসায়নিক সংরক্ষণকারী, কৃত্রিম স্বাদবর্ধক ও স্টেবিলাইজার থাকে। এগুলি পাকস্থলীর উপর চাপ ফেলে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করে। নিয়মিত খেলে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
২) চিনি
চিনিতে ক্যালোরি প্রচুর হলেও পুষ্টিগুণ প্রায় নেই বললেই চলে। অতিরিক্ত চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়, ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমায় এবং শরীরে মেদ জমাতে সাহায্য করে। লিভারের ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও পেটের নানা সমস্যার জন্যও চিনি দায়ী। তাই হেঁশেলে চিনি কমিয়ে বা বাদ দিয়ে স্টিভিয়ার মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহার করাই শ্রেয়।
৩) নিম্নমানের চকোলেট
সব চকোলেট কিন্তু সমান নয়। বাজারে পাওয়া সস্তা কোকো ফ্লেভারযুক্ত চকোলেটগুলিতে ভেজিটেবল ফ্যাট, কৃত্রিম রাসায়নিক ও ইমালসিফায়ার মেশানো থাকে। এই উপাদানগুলি হজমের সমস্যা বাড়ায়, শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ত্বকের নানা সমস্যা ডেকে আনে। তাই চকোলেট কেনার আগে উপাদান তালিকা ভালো করে দেখা জরুরি।
৪) প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড
প্লাস্টিকের চপিং বোর্ডে কাটাকুটি করার সময় মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া বাড়ায়, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্লাস্টিকের বদলে কাঠ বা বাঁশের চপিং বোর্ড ব্যবহার করাই নিরাপদ।
৫) রিফাইন্ড ভেজিটেবল অয়েল
রিফাইন্ড তেল অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত ও রাসায়নিকভাবে নিষ্কাশিত হয়। এতে থাকা অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, গ্যাস ও হজমের সমস্যা তৈরি করে এবং বিভিন্ন ক্রনিক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। দৈনন্দিন রান্নার জন্য কোল্ড প্রেসড তেল অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ।
উপসংহার
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু কী খাবেন তা নয়, কী বাদ দেবেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রান্নাঘরের এই পাঁচটি নীরব শত্রুকে বিদায় জানাতে পারলেই শরীর থাকবে অনেক বেশি সুস্থ ও রোগমুক্ত।