পৃথিবী দিন দিন আরও আধুনিক হচ্ছে, প্রযুক্তি এগোচ্ছে, যোগাযোগের মাধ্যম বেড়েছে বহুগুণ—তবুও মানুষ ক্রমশ একা হয়ে পড়ছে। বাহ্যিক কোলাহলের আড়ালে গোপনে বেড়ে চলেছে এক গভীর মানসিক সংকট—একাকীত্ব। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, বর্তমানে পৃথিবীর প্রতি ৬ জন মানুষের মধ্যে ১ জন তীব্র একাকীত্বে ভুগছেন। এই সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকীত্ব শুধু মানসিক কষ্ট নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে এক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা থেকে শুরু করে আত্মহত্যার প্রবণতা—সবকিছুর মূলেই রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ জন মানুষ একাকীত্বজনিত মানসিক যন্ত্রণা থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শুধুমাত্র একাকীত্বের প্রভাবে প্রায় ৮ লক্ষ ৭১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে কিশোর ও তরুণ সমাজকে ঘিরে। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রায় ২০.৯ শতাংশ একাকীত্বে ভুগছে। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই হার ১৭.৪ শতাংশ। অর্থাৎ জীবনের সবচেয়ে কর্মচঞ্চল ও সামাজিক হওয়ার কথা যে সময়ে, সেই সময়েই মানসিক নিঃসঙ্গতা গ্রাস করছে বড় অংশের যুবসমাজকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থার মতে, মানুষের মধ্যে যে সামাজিক বন্ধন থাকা দরকার, বাস্তবে তার সঙ্গে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলেই মানুষ ক্রমশ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এখনই সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবারে সময় দেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, সমাজভিত্তিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। না হলে এই নীরব মহামারি ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
একাকীত্ব আজ আর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়—এটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট। এখনই যদি সচেতনতা না বাড়ে, তবে আগামী প্রজন্ম আরও গভীর এক নিঃসঙ্গ পৃথিবীর মুখোমুখি হবে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.