নতুন ব্যবসা শুরু করা হোক বা পুরনো ব্যবসাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়া—পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি পজ়িটিভ এনার্জির গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক সময় দেখা যায়, সব রকম চেষ্টা সত্ত্বেও ব্যবসায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না। বাস্তুশাস্ত্র মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে নেগেটিভ এনার্জির প্রভাব বা অশুভ নজর। নতুন বছরে ব্যবসায় উন্নতি ও লাভ বাড়াতে বাস্তুর কিছু সহজ কিন্তু শক্তিশালী টোটকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। জেনে নিন সেই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তু টিপস।
১. কমলগট্টর টোটকা
ব্যবসায় আর্থিক উন্নতির জন্য বাস্তুশাস্ত্রে একটি জনপ্রিয় টোটকার উল্লেখ রয়েছে। সাতটি কড়ি, সাতটি পদ্মবীজ (কমলগট্টা) এবং সাতটি গোমতী চক্র একটি লাল কাপড়ে বেঁধে পুঁটলি তৈরি করুন। এই পুঁটলিটি নিজের ব্যবসার জায়গায় নিরাপদ স্থানে রেখে দিন। বিশ্বাস করা হয়, এতে অর্থাগমের পথ সুগম হয় এবং লাভের সম্ভাবনা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
২. প্রতিদিন মন্ত্রপাঠের অভ্যাস
জ্যোতিষ মতে, মানুষের হাতেই দেবশক্তির বাস। আঙুলে অবস্থান করেন মা লক্ষ্মী, তালুর মাঝখানে মা সরস্বতী এবং হাতের গোড়ায় ব্রহ্মা। তাই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের দুই হাতের পাতা দর্শন করে এই মন্ত্রটি জপ করা অত্যন্ত শুভ—
“করাগ্রে বসতে লক্ষ্মী, করমধ্যে সরস্বতী
কর মূলে স্থিত ব্রহ্মা প্রভাতে কর দর্শনম”
এই মন্ত্র পজ়িটিভ এনার্জি বাড়ায় এবং কর্মক্ষেত্রে সাফল্য আনে।
৩. জাফরানের শক্তিশালী টোটকা
ব্যবসায় দ্রুত উন্নতির জন্য জাফরানের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়। এক চিমটে কেশর দুধে ভিজিয়ে তার মধ্যে একটি তুলোর টুকরো ডুবিয়ে নিন। সেই কেশরভেজা তুলো নিজের কর্মস্থানে ঝুলিয়ে রাখুন। এর ফলে নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়ে ব্যবসায় শুভ শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
৪. পাখি ও মাছকে খাবার খাওয়ান
প্রতি বুধবার ও শুক্রবার মাছকে ময়দার গুলি এবং পাখিকে শস্য খাওয়ালে আর্থিক সমস্যার সমাধান হয় বলে বিশ্বাস। নিয়মিত দু’মাস এই কাজ করলে ঋণমুক্তির পথ খুলে যায় এবং ব্যবসায় চোখে পড়ার মতো উন্নতি দেখা যায়।
৫. সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, সন্ধ্যার সময় ব্যবসার স্থানে ঝাঁট দেওয়া অশুভ। এতে মা লক্ষ্মী বিরূপ হয়ে যেতে পারেন, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। বরং প্রতিদিন সন্ধ্যায় ব্যবসার জায়গায় একটি প্রদীপ জ্বালালে শুভ শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
নতুন বছরে ব্যবসায় সাফল্য ও স্থায়ী লাভের জন্য এই বাস্তু টোটকাগুলি নিয়মিত মেনে চললে পজ়িটিভ পরিবর্তন আসতে পারে। পরিশ্রমের সঙ্গে সঠিক শক্তির সমন্বয়ই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।