মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথি হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত। চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার মাঘী পূর্ণিমা পালিত হবে। ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটে শুরু হবে পূর্ণিমা তিথি এবং রাত ৩টা ৩৯ মিনিটে প্রতিপদ শুরু হবে। সারাদিন জুড়েই এই দিনটি পুণ্যতিথি হিসেবে গণ্য করা হয়। শাস্ত্র মতে, এই দিনে সঠিক আহার ও আচরণবিধি মেনে চললে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। অন্যদিকে নিয়ম ভাঙলে মা লক্ষ্মীর কৃপা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে বলে বিশ্বাস।
শাস্ত্র ও আয়ুর্বেদে কেন এত বিধিনিষেধ?
আয়ুর্বেদ ও কবিরাজি মতে, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে কিছু খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পরবর্তীকালে এই ধারণার সঙ্গে জ্যোতিষীয় বিশ্বাস যুক্ত হয়। মনে করা হয়, ভুল আহার শরীরে অসুস্থতা ডেকে আনে, যার ফলে চিকিৎসা খরচ বাড়ে এবং মানসিক অশান্তিও তৈরি হয়।
মাঘী পূর্ণিমায় যে খাবারগুলি এড়াবেন
এই দিনে সম্পূর্ণভাবে আমিষ আহার নিষিদ্ধ। মাছ, মাংস, ডিম তো বটেই, পেঁয়াজ ও রসুনের মতো তামসিক উপাদানও খাবেন না। পাশাপাশি মুসুর ডাল গ্রহণ করাও নিষেধ।
মাঘ মাস জুড়েই মুলো খাওয়া নিষিদ্ধ বলে ধরা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়ে মুলো খেলে শরীরে নানা অসুখ বাসা বাঁধতে পারে। সেই কারণেই মাঘী পূর্ণিমাতেও মুলো বা মুলো জাতীয় সবজি এড়িয়ে চলার নির্দেশ রয়েছে।
এছাড়াও কুমড়ো ও চালকুমড়ো এই তিথিতে না খাওয়াই ভালো। শাস্ত্র মতে, এই সবজি গ্রহণ করলে অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। একইভাবে বিউলির ডাল ও মাসকলাই ডাল খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়, কারণ এই মরশুমে এই ডালগুলি শরীরের জন্য উপযুক্ত নয় বলে মনে করা হয়।
পোশাকেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা
খাবারের পাশাপাশি পোশাকের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। মাঘী পূর্ণিমার দিন কালো রঙের পোশাক পরা নিষিদ্ধ। শাস্ত্র অনুসারে কালো রং তামসিক শক্তির প্রতীক, তাই এই পবিত্র দিনে কালো রঙ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
কী খাবেন?
এই দিনে সাত্ত্বিক নিরামিষ খাবার গ্রহণ করাই সবচেয়ে ভালো। হালকা, সহজপাচ্য ও পবিত্র খাবার খেলে শরীর ও মন দুইই সুস্থ থাকে বলে বিশ্বাস। তামসিক আহার বর্জন করে সাত্ত্বিক জীবনযাপন করলে মা লক্ষ্মীর কৃপা লাভ করা যায়—এমনটাই শাস্ত্রীয় মত।
মোট কথা, মাঘী পূর্ণিমা শুধু একটি ধর্মীয় তিথি নয়, বরং শরীর ও মনকে শুদ্ধ রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। নিয়ম মেনে চললে যেমন পুণ্য লাভ হয়, তেমনই ভুল করলে জীবনে নেমে আসতে পারে অশুভ প্রভাব—এই বিশ্বাসই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.