দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন মণ্ডল পরিবার, সরকারি ক্ষতিপূরণ নেবে কে? শ্মশানে চিতার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন এলাকাবাসীর

হলদিয়ার বালুঘাটা রোড যেন এক নিমেষে মুছে দিল একটি গোটা পরিবারের অস্তিত্ব। শনিবারের ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় অরূপ মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী ও কন্যার মৃত্যু হয়েছে। এর ঠিক ১৭ দিন আগেই হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের একমাত্র ছেলের। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একটি পরিবার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।

শনিবার একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বাইক এবং পরে একটি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা মারে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অরূপ মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। দুর্ঘটনায় আহত আরও আটজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছন হলদিয়ার জেলাশাসক ইউনিস রিসিন ইসমাইল এবং পরিস্থিতির তদারকি শুরু হয়।

রাজ্য সরকারের তরফে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাসচালক মহাদেবের পরিবারের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে অরূপ মণ্ডলের পরিবারকে ঘিরে।

কারণ, অরূপ মণ্ডল পরিবারের কোনও প্রত্যক্ষ উত্তরাধিকারী আর বেঁচে নেই। একমাত্র ছেলের মৃত্যু হয়েছে ১৭ দিন আগে, আর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের বাকি তিন সদস্য। ফলে তাঁদের প্রাপ্য মোট ৬ লক্ষ টাকা আইন অনুযায়ী কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল জানিয়েছেন, “রাজ্য সরকারের নির্দেশে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব জেলা প্রশাসন নিচ্ছে। মৃতদের পরিবারের ক্ষেত্রে যিনি আইনিভাবে বৈধ দাবিদার হিসেবে সামনে আসবেন, তাঁর হাতেই নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দেওয়া হবে।”

শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামের শ্মশানে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জায়গা কম থাকায় প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল একে একে দেহ সৎকার করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের উদ্যোগে পাশাপাশি সাজানো হয় তিনটি চিতা। একই আগুনে বিলীন হয়ে যায় একসময় হাসিখুশি মণ্ডল পরিবারের শেষ স্মৃতিটুকু।

স্থানীয় এক বাসিন্দা চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন,
“সরকার টাকা দেবে ঠিকই, কিন্তু যাঁদের জন্য সেই টাকা, তাঁরাই তো আর নেই। একটা গোটা পরিবার শেষ হয়ে গেল—টাকা দিয়ে কি সেই শূন্যতা ভরাট করা যায়?”

হলদিয়ার এই দুর্ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ও আইনি প্রশ্নই নয়, সমাজের সামনে তুলে ধরল এক নির্মম বাস্তব—কয়েক মুহূর্তের অসাবধানতায় কীভাবে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে একটি সম্পূর্ণ পরিবার, আর তারপর পড়ে থাকে শুধু প্রশ্ন আর শোক।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক