Swastika: তিনি মারা গেলে যেন তাকে ফুল দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হয়! এমনই এক সুপ্ত মনোবাসনার কথা জানালেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি (Swastika)। অনেকেই জানেন এই অভিনেত্রী ভীষণে প্রাণখোলা স্বভাবের। মনের মধ্যে কোনো কথা লুকিয়ে রাখেন না তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবটা উজাড় করে দেন। সেরকমই কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লম্বা-চওড়া বর্ণনা দিয়েছেন কয়েকটি ঘটনার।
লিখেছেন, ‘বন্ধুর বিয়ে, ভরপুর সাহুগুজু চাই-ই চাই। আমলি থেকে টোটো নিয়ে গেলাম বিয়েবাড়ি, পছন্দ মতন ফুল তো পাওয়া যাচ্ছে না, টোটোদাদা কে জিজ্ঞেস করলাম, মাথায় লাগানোর ফুল কোথায় পাই, বললেন বাজারে যেতে হবে দিদি, সে অনেকটাই পথ আর উল্টো দিকে। আমার বন্ধু যার সঙ্গে বিয়েবাড়ি গেলাম তাকে বললাম, তুই ডান দিকে খোঁজ, আমি বা দিকটায় দেখি, ফুল গাছ দেখতেই পেলেই লাফ মারব।’
‘আমার বন্ধুর বাড়ি বোলপুরে, সে বলল, এখানে আদিবাসী মেয়েরা মাথায় দেয় একরকম ফুল, পলাশের মতন রং, কিন্তু পলাশ নয়, ওটা বেশ হবে। বলতে না বলতেই দেখি একটা দেওয়াল বেয়ে সূর্যের আলোর রঙের ফুল থোকা থোকা হয়ে ঝুলছে। ঝপ করে টোটো থামিয়ে, ফুল পেড়ে, ব্যাগ এ রাখা কাঁটা বের করে সঙ্গে সঙ্গে মাথায় পুট, মানির অয়েল পুট এর মতন। গন্তব্য স্থলে পৌঁছে, টোটোর আয়নায় একটু ফুল গুলো ঝড়ে পড়ছে কিনা দেখে নিয়েই হাঁটা দিলাম।’
‘কী আদুরে নরম অপূর্ব ফুলগুলো। হাত লাগলেই মুড়ছে পড়ছে।
হোটেল ফিরে যত্ন করে মাথা থেকে খুলে বিছানার পাশে রাখলাম।
মায়ের মতন দেখতে লাগতে হবে। সিল্কের শাড়ি পরে গায়ে আঁচল দিলে আরও মনে হয়, মা কী সুন্দর মাথায় ফুল দিয়ে, ওপরে বা ঘাড়ের কাছে আলতো খোঁপা করে, কপালে উঁচু করে বড় টিপ পড়ত। মা কেই কপি করে চলেছি, আর চলবো ও। বোন সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেই ব্যাস, আমার ইচ্ছেপূরণ।’
‘বাড়ির সবাই কে বলে রেখেছি, আমি মরে গেলে আর কিছু হোক না হোক, ফুল দিয়ে যেন চাপা দিয়ে আমায় বিদায় করে। ওরা আমার নিত্য দিনের সঙ্গী। আমার সঙ্গে ওদের নিবিড় সম্পর্ক। শাড়িটার বয়স আমার মেয়ের চেয়েও বেশি, ২৭ বছর হবে। পার্ক স্ট্রিটের এক দোকান থেকে মা কিনে দিয়েছিল। যত্ন করে রাখতে পারলে, আর যত্ন করে রাখতে দিলে, সব থাকে। শাড়ি হোক বা জীবন।’