ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র Asha Bhosle-এর প্রয়াণের পর তাঁর শেষ ইচ্ছেপূরণে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল Varanasi-র ঘাট। পরিবারের সদস্যরা গঙ্গার তীরে তাঁর অস্থি বিসর্জনের মাধ্যমে চিরবিদায় জানালেন কিংবদন্তি শিল্পীকে।
গত ১২ এপ্রিল এই বর্ষীয়ান গায়িকা ইহজগতের মায়া ত্যাগ করেন। পরদিন মুম্বইয়ের শিবাজী পার্ক সংলগ্ন শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, ঘনিষ্ঠজন ও অসংখ্য অনুরাগী। কিন্তু তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চিতাভস্ম বিসর্জনের জন্য বেছে নেওয়া হয় পবিত্র গঙ্গার তীর।
এক সপ্তাহ পর পরিবারের সদস্যরা বারাণসিতে পৌঁছে নিয়ম মেনে পুজো-আর্চা করে তাঁর অস্থি বিসর্জন দেন Ganges নদীতে। এই সময় গায়িকার পুত্র আনন্দ ভোঁসলের সঙ্গে ছিলেন নাতনি জনাই, যিনি ঠাকুমার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
অস্থি বিসর্জনের মুহূর্তটি ছিল গভীর আবেগে ভরা। জনাই নিজের আবেগ সামলাতে পারেননি—পুজোর আচার পালন করতে করতেই তাঁর চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। পরিবারের অন্য সদস্যরাও একইভাবে শোকাহত ছিলেন। ঘাটে বসে শ্রাদ্ধকর্মের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়ে ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে, যা ভক্তদের মনেও গভীর ছাপ ফেলেছে।
পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, জীবনের শেষদিকে আশা ভোঁসলের ইচ্ছা ছিল তাঁর চিতাভস্ম যেন বারাণসির গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হয়। সেই ইচ্ছাকেই মর্যাদা জানিয়ে পরিবার এই সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতীয় সংস্কৃতিতে গঙ্গায় অস্থি বিসর্জনকে আত্মার মুক্তি ও শান্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যা এই সিদ্ধান্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
প্রয়াণের পর থেকে নাতনি জনাই একাধিকবার আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, ঠাকুমার চলে যাওয়া তাঁর জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। শেষকৃত্যের দিন রাতে তিনি লিখেছিলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে আর কাকে জড়িয়ে ধরব?”—এই একটি বাক্যই তাঁর গভীর শোকের প্রকাশ বহন করে।
বারাণসির ঘাটে অস্থি বিসর্জনের এই দৃশ্য শুধুমাত্র একটি পারিবারিক আচার নয়, বরং এক যুগের অবসান এবং এক কিংবদন্তির প্রতি শেষ শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে রইল।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.