ফিটনেসের নেশা কখনও কখনও যে মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে, নাগপুরের ২৩ বছরের এক তরুণের ঘটনা সেই সতর্কবার্তাই নতুন করে সামনে আনল। নিয়মিত শরীরচর্চার অংশ হিসেবে নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ডেডলিফট প্র্যাকটিসের একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, বারবার ব্যর্থ হলেও হার মানবেন না—জিতবেনই। কিন্তু সেই জেদই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির জন্ম দেয়।
দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর ওয়ার্কআউটের পর বাড়ি ফিরেই আচমকা অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে দেরি হয়নি তাঁর মায়ের। পেশায় নার্স হওয়ায় তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ শারীরিক সমস্যা নয়—বরং স্ট্রোকের সম্ভাবনা রয়েছে। সময় নষ্ট না করে তিনি ছেলেকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তরুণের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি ‘মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি’-র মাধ্যমে সেই জমাট রক্ত সরানো হয়। এর ফলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ফিরতে শুরু করে এবং বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
চিকিৎসকদের তৎপরতা ও মায়ের সময়োচিত সিদ্ধান্তের জেরে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন তরুণ। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং শেষমেশ তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত শরীরচর্চা শরীরের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ভারোত্তোলনের মতো কঠিন ব্যায়ামের সময় সতর্কতা না মানলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হেমোরেজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের রক্তনালী ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যা পক্ষাঘাত বা প্রাণহানির কারণও হতে পারে।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট, ফিট থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই প্রয়োজন নিজের শরীরের সীমা বোঝা। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায় হতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.