বাংলা নাট্য ও চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ বিপ্লব দাশগুপ্তর প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংস্কৃতিমহলে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার দুপুরে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি একটি অটোইমিউন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
মঞ্চ এবং পর্দা—দুই মাধ্যমেই সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর অভিনয়ের বৈচিত্র্য ও সহজাত দক্ষতা দর্শকমনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। সহকর্মীদের কাছে তিনি শুধু দক্ষ শিল্পীই নন, একজন আন্তরিক এবং মানবিক মানুষ হিসেবেও সমানভাবে শ্রদ্ধেয় ছিলেন।
পরিচালক প্রভাত রায়, যাঁর সঙ্গে একাধিক কাজ করেছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত, তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, অভিনেতা হিসেবে যেমন নিষ্ঠাবান ছিলেন, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন অত্যন্ত সহৃদয়। অসুস্থতার সময়ও তিনি নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন—এই মানবিক দিকটি তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।
অভিনেত্রী চৈতি ঘোষালও আবেগঘন স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেছেন বিপ্লব দাশগুপ্তর সহজ-সরল ও প্রাণবন্ত স্বভাব। বহু বছরের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি একটি ব্যক্তিগত ঘটনার উল্লেখ করেন। একবার তাঁর বাড়িতে এসে ছোট ছেলের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠেছিলেন বিপ্লব—এই স্মৃতি আজও তাঁর মনে অমলিন। তবে সময়ের ব্যবধানে যোগাযোগ কমে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি, যা আজ তাঁর মনে আরও শূন্যতা তৈরি করেছে।
অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি কয়েক বছর আগেও তাঁর সঙ্গে কাজ করেছিলেন, সহ-অভিনেতার প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর কথায়, বিপ্লব দাশগুপ্ত ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত মানুষ, যিনি সবসময় হাসি-ঠাট্টায় পরিবেশ ভরিয়ে রাখতেন। তাঁর অনুপস্থিতি শিল্পী মহলে এক বড় শূন্যতা তৈরি করল।
বিপ্লব দাশগুপ্তর মৃত্যু শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয়, বরং এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের অবসান। তাঁর কাজ ও স্মৃতি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে সহকর্মী ও দর্শকদের মনে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.