পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি নজর কেড়েছে তারকাদের উপস্থিতি। গরম উপেক্ষা করে একাধিক রাজনৈতিক দলের হয়ে রাস্তায় নেমে প্রচার করেছেন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখেরা। কিন্তু এই প্রচার কতটা আদর্শনির্ভর, আর কতটা আর্থিক লেনদেনের ওপর দাঁড়ানো— তা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় একটি পোস্টে প্রশ্ন তোলেন— যাঁদের সিনেমা হলে দর্শক টানতে ব্যর্থ, তাঁদের দেখতে রাজনৈতিক মিছিলে এত ভিড় কেন? সেই পোস্টের মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।
‘রোড শো মানেই টাকা’— দাবি পরিচালকের
শুভ্রজিৎ মিত্র দাবি করেন, অধিকাংশ তারকাই রাজনৈতিক রোড শো বা প্রচারে অংশ নেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। তাঁর কথায়, এক একটি অনুষ্ঠানের জন্য ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়ে থাকে, এবং এই অর্থ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নগদে লেনদেন হয়। এমনকি পুরো অর্থ হাতে না পেলে অনেকেই নাকি প্রচারে যেতে চান না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই অংশগ্রহণের পিছনে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, বরং আর্থিক লাভই প্রধান উদ্দেশ্য।
নজরদারিতে প্রশাসন?
পরিচালকের দাবি অনুযায়ী, এই ধরনের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি চলছে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি র্যালি ও সংশ্লিষ্ট খরচের হিসাব রাখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর ফলাফল সামনে আসতে পারে।
তারকা উপস্থিতিতে জমজমাট প্রচার
এই নির্বাচনে বিভিন্ন দলের হয়ে প্রচারে দেখা গেছে একাধিক তারকা মুখকে। শাসকদলের হয়ে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন দেব, সৌমিতৃষা কুণ্ডু, কৌশানি মুখার্জি, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রাণী হালদার এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-এর মতো জনপ্রিয় নাম।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরেও তারকাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এমপি-এমএলএদের ক্ষেত্রেও কি একই ছবি?
শুধু বাইরের তারকারাই নন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন শুভ্রজিৎ। তাঁর মতে, এমপি ও এমএলএদের ক্ষেত্রেও প্রচারের নামে বড় অঙ্কের অর্থের আদান-প্রদান হয়, যা কখনও নগদ, কখনও অন্য সুবিধার মাধ্যমে দেওয়া হয়।
নির্বাচনী প্রচার: বিশাল খরচের খাতা
একটি নির্বাচনী প্রচারের পিছনে খরচের তালিকাও কম নয়—
হেলিকপ্টার ও যাতায়াত
কর্মীদের খাবার ও ভাতা
জনসমাগম বাড়াতে লোক ভাড়া
ডিজিটাল প্রচার ও পিআর
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট
সব মিলিয়ে কোটি টাকার বিশাল বাজেট লাগে বলে দাবি।

প্রশ্নে জনমানস
সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, সিনেমা হলে যাঁদের দেখতে দর্শক অনাগ্রহী, তাঁদের রাজনৈতিক মঞ্চে ঘিরে উন্মাদনা এক ধরনের বৈপরীত্যই তুলে ধরে।
উপসংহার
তারকাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়, তবে তা ঘিরে অর্থের প্রভাব নিয়ে এই ধরনের অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। আদর্শ বনাম আর্থিক স্বার্থ— এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.