পৃথিবীতে আসার মুহূর্তেই একটি শিশুর কান্নার আওয়াজে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যরা। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— জন্মেই কেন শিশু কাঁদে? কেন সে হাসে না? আসলে এই কান্নাই নবজাতকের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। এর পিছনে রয়েছে শরীরবৃত্তীয় ও স্নায়ুবৈজ্ঞানিক এক জটিল কিন্তু স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
প্রথম কান্না মানেই প্রথম শ্বাস
মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর ফুসফুসে জমা থাকে অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড। এই তরল শিশুর ফুসফুস, পেশি ও অন্যান্য অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে এবং গর্ভের ভিতরে শ্বাসপ্রশ্বাসের কাজও করে। জন্মের পর শিশুকে প্রথমবার বাইরের অক্সিজেন গ্রহণ করতে হয়। তখন কান্নার সময় ফুসফুসে জমে থাকা ওই তরল বেরিয়ে যায় এবং বায়ুথলি খুলে যায়। এর মাধ্যমেই শুরু হয় শিশুর স্বাধীন শ্বাসপ্রশ্বাস।
এই প্রক্রিয়ায় সামান্য অস্বস্তি হয় শিশুর শরীরে, যা স্বাভাবিক। সেই অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশই কান্না। তাই জন্মের পর শিশুর না কাঁদা বরং চিন্তার কারণ।
রক্তসঞ্চালন ও হৃদস্পন্দনে কান্নার ভূমিকা
শিশু যখন কাঁদে, তখন তার শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক ছন্দে আসে। এই কান্না সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালনকে সক্রিয় করে তোলে, যা নবজাতকের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
পাচনতন্ত্রের প্রস্তুতি
প্রথম কান্না শিশুর পাচনতন্ত্রকেও সক্রিয় করে। এর ফলে সে মাতৃদুগ্ধ পান করার জন্য প্রস্তুত হয়। অর্থাৎ কান্না শিশুর জীবনের প্রথম খাবারের পথও তৈরি করে দেয়।
মস্তিষ্কে কান্না আগে, হাসি পরে
নবজাতকের মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিকশিত থাকে না। কান্না নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের নীচের অংশ— ব্রেনস্টেম ও অ্যামিগডালা। এই অংশগুলি জন্মের সময়ই সক্রিয় থাকে, তাই কান্নাই প্রথম আবেগ হিসেবে প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে, হাসি ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সেরিব্রাল কর্টেক্স ও মোটর কর্টেক্স। এই অংশগুলির বিকাশ ধীরে ধীরে হয়। ফলে জন্মের ৬–৮ সপ্তাহ পরে শিশুর ‘সোশ্যাল স্মাইল’ দেখা যায়। ঘুমের মধ্যে যে হাসি দেখা যায়, তা আসলে রিফ্লেক্স স্মাইল— পেশির স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণের ফল।
যদি শিশু জন্মেই না কাঁদে
জন্মের পর শিশু যদি না কাঁদে, তা হলে চিকিৎসকেরা সতর্ক হন। এটি ‘পেরিনাটাল অ্যাসফিক্সিয়া’-র লক্ষণ হতে পারে, যেখানে শিশুর মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছয় না। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এমনকি প্রাণঘাতী পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন
Lifestyle: সব খাবারেই হানা দিচ্ছে পিঁপড়ে? এই টোটকায় বাপ বাপ বলে পালাবে
দ্রুত চিকিৎসা না হলে ভবিষ্যতে হাইপক্সিক-ইস্কেমিক এনসেফেলোপ্যাথি, সেরিব্রাল পলসি, মৃগী, দৃষ্টিহীনতা, শ্রবণশক্তি হ্রাস বা কথা বলার সমস্যার মতো গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন
Lifestyle: বিছানায় সঙ্গীকে সুখ দিতে চান? রসুনের সাথে খান এক চামচ
উপসংহার
শিশুর প্রথম কান্না কোনও দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং জীবনের প্রথম জয়ধ্বনি। এই কান্নাই জানিয়ে দেয়— শিশুর ফুসফুস কাজ করছে, মস্তিষ্ক সাড়া দিচ্ছে এবং নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই সে শুরু করে দিয়েছে। তাই নবজাতকের কান্না মানেই সুস্থ জীবনের প্রথম আশ্বাস।
আরও পড়ুন
Lifestyle: সূর্যের অতিবেগনি রশ্মিতে ত্বকের ক্ষতি—দাগছোপ ও সুরক্ষার উপায়

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.