মুম্বইয়ের টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় মুখ Karan Wahi সম্প্রতি দাবি করেছেন, আমিষ খাবার ছাড়ার পর তাঁর দীর্ঘদিনের ত্বকের অ্যালার্জি অনেকটাই কমে গেছে। আধ্যাত্মিক জীবনের দিকে ঝোঁকার পাশাপাশি গত কয়েক মাস ধরে তিনি সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলছেন। তাঁর কথায়, এতে শুধু মানসিক শান্তিই নয়, ত্বকের অবস্থারও উন্নতি হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—এই অভিজ্ঞতা কি সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য?
পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। আমিষ বা নিরামিষ—কোনও একক খাদ্যপদ্ধতির সঙ্গে সরাসরি ত্বকের অ্যালার্জির সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, শুধুমাত্র মাছ-মাংস ছেড়ে দিলেই ত্বকের সমস্যা সেরে যাবে—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
কর্ণের ক্ষেত্রে কাজ করল কেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কর্ণ ওয়াহির ক্ষেত্রে সম্ভবত কিছু নির্দিষ্ট আমিষ খাবারের প্রতি অ্যালার্জি ছিল। সেই খাবারগুলি বন্ধ করায় তাঁর উপসর্গ কমেছে।
কিন্তু এর মানে এই নয় যে, সকলের জন্য আমিষ ত্যাগ করাই সমাধান।
অ্যালার্জির আসল কারণ কী?
খাবারের অ্যালার্জি আসলে নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিনের উপর, যেগুলিকে বলা হয় ‘এপিটোপ’। এই প্রোটিন শরীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
আমিষ খাবারের মধ্যে যেগুলি সাধারণ অ্যালার্জেন:
মাছ
চিংড়ি, কাঁকড়া (শেলফিস)
ডিম
👉 আবার অনেক উদ্ভিজ্জ খাবারেও অ্যালার্জি হতে পারে, যেমন:
সয়াবিন
গ্লুটেন
চিনেবাদাম
বিভিন্ন বাদাম (কাজু, কাঠবাদাম, আখরোট)
তিল
অর্থাৎ, অ্যালার্জি নির্ভর করে নির্দিষ্ট উপাদানের উপর—খাবারটি আমিষ না নিরামিষ, তার উপর নয়।
কী করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
নিজের মতো করে হঠাৎ খাদ্যাভ্যাস বদলাবেন না
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যালার্জি টেস্ট করান
কোন খাবারে সমস্যা হচ্ছে তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করুন
শেষকথা
কর্ণ ওয়াহির অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগতভাবে সত্যি হতে পারে, কিন্তু সেটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সুস্থ থাকতে হলে ‘এক ফর্মুলা সবার জন্য’—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যক্তিগত শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.