পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক নতুন পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে নারী নিরাপত্তার বিষয়টি। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের নারী ও শিশুবিকাশ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা করেছেন।
অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দিনের যে কোনো সময় কিংবা গভীর রাতেও মহিলারা যাতে নির্ভয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, মহিলাদের অভিযোগ পেলে পুলিশকে দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
সম্প্রতি এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই প্রসঙ্গে মত প্রকাশ করেন জনপ্রিয় গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইমন বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনও সবসময় ভয় নিয়ে বাইরে বেরিয়েছেন এমনটা মনে করেন না। তবে সরকারের দায়িত্বশীল কোনও ব্যক্তির মুখে এমন আশ্বাস মানুষের মনে স্বস্তি এনে দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা নিয়ে দৃঢ় বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ইমনের এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ কটাক্ষও করেছেন। রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নানা মন্তব্যও দেখা যায় নেটমাধ্যমে।
অন্যদিকে, নারী নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্যে খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে বিশেষ উইমেন হেল্পলাইন নম্বর ‘১৮১’। সরকারের দাবি, এই পরিষেবায় ‘জিও-ট্যাগিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ফলে কোনো মহিলা বিপদের মুহূর্তে ফোন করলে তাঁর অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটবর্তী থানায় পৌঁছে যাবে এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যে স্পষ্ট, মহিলাদের চলাফেরার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বদলে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন সরকারের এই অবস্থান আগামী দিনে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.