সমাজের চোখে একসময় তিনি ছিলেন শুধুই ‘মেয়ে সন্তান’। জন্মের পর থেকেই পরিবার ও আত্মীয়দের একাংশের কটূক্তি শুনে বড় হতে হয়েছিল তাঁকে। কারণ, পরিবারের প্রত্যাশা ছিল পুত্রসন্তান। কিন্তু সেই ছোট্ট মেয়েই একদিন নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে হয়ে উঠলেন দেশের অন্যতম সফল প্রশাসনিক আধিকারিক। তিনি বাংলার গর্ব, IAS শ্বেতা আগরওয়াল।
হুগলির ভদ্রেশ্বরের সাধারণ পরিবারে জন্ম শ্বেতার। সংসারে ছিল আর্থিক অনটন। তাঁর বাবা দিনমজুরির কাজ করতেন। পরিবারের পক্ষে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোই ছিল কঠিন। কিন্তু অর্থাভাব কখনও তাঁর স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
শৈশব থেকেই শ্বেতার লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক আধিকারিক হওয়া। নানা বাধা, সমাজের কটাক্ষ এবং আর্থিক সংকটের মধ্যেও বাবা-মা মেয়ের পড়াশোনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সমর্থনই তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিল।
ব্যান্ডেল জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন শ্বেতা। পরে একটি বহুজাতিক সংস্থায় চাকরিও পান তিনি। কিন্তু কর্পোরেট চাকরি তাঁর স্বপ্নের শেষ গন্তব্য ছিল না। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাই তাঁকে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
২০১৪ সালে প্রথমবার UPSC পরীক্ষায় অংশ নিয়েই সারা দেশে ৪৯৭ নম্বর র্যাঙ্ক অর্জন করেন তিনি এবং IRS পদে নির্বাচিত হন। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি শ্বেতা। আরও ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে আবার পরীক্ষায় বসেন। ২০১৫ সালে IPS পদে সুযোগ পান তিনি। অবশেষে ২০১৬ সালে তৃতীয় প্রচেষ্টায় অল ইন্ডিয়া ১৪১ র্যাঙ্ক অর্জন করে IAS অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন।
আজ শ্বেতা আগরওয়াল পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক বা District Magistrate হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁর জীবনের গল্প শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়, এটি নারীশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াই করে উঠে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ।
সমাজের চোখে অবহেলিত এক কন্যাসন্তান থেকে জেলার প্রশাসনিক প্রধান হয়ে ওঠার এই যাত্রা বাংলার অসংখ্য মেয়েকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.