মথুরায় স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যৌন নিপীড়ন, ব্ল্যাকমেল, মাদক প্রয়োগ এবং তরুণ-তরুণীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ২৯ বছর বয়সি অভিষেক মিশ্র নামে এক ব্যক্তি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘আইআইটি বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি রুরকি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আধ্যাত্মিক বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি বহু তরুণ-তরুণীর আস্থা অর্জন করেছিলেন। মথুরার রাধাকুণ্ড এলাকায় কয়েক বছর ধরে ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনুসারী সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষিত তরুণ সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর আশ্রমে একসময় দুই ডজনেরও বেশি তরুণ-তরুণী বসবাস করতেন। অভিযোগ, অনুসারীদের পরিবারের থেকে দূরে সরে এসে আশ্রমকেন্দ্রিক জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হত। ধীরে ধীরে তাঁদের উপর মানসিক প্রভাব বিস্তার করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলত বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

মামলার সূত্রপাত ছত্তীসগঢ়ের এক তরুণীর অভিযোগ থেকে। তরুণীর দাবি, বোনের সঙ্গে দেখা করতে মথুরায় এসে তিনি অভিযুক্তের সংস্পর্শে আসেন। পরে প্রসাদের নামে তাঁকে মাদক মেশানো পানীয় দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অচেতন বা আচ্ছন্ন অবস্থায় তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করা হয়।
অভিযোগকারিণী আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি নিজ রাজ্যে ফিরে গেলেও ধারণ করা ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু হয়। মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয় এবং চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও কিছু উদ্বেগজনক তথ্য। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত তথাকথিত ‘গান্ধর্ব বিবাহ’-এর ধারণা ব্যবহার করে নারী অনুসারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে শারীরিক শোষণ এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হত বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রেই এই সম্পর্কের ছবি বা ভিডিও ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে একাধিক নারীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, অভিযোগকারীর বাইরেও আরও বহু ব্যক্তি এই চক্রের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
এদিকে অভিযুক্তের আশ্রম থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে এমন অভিযোগও সামনে এসেছে যে, আশ্রমে থাকা কিছু ব্যক্তিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিতে উৎসাহিত করা হত এবং পরিবার তাঁদের ফিরিয়ে নিতে এলে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে ধর্মীয় বক্তৃতা ও আধ্যাত্মিক চর্চার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও সময়ের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ফলে অনেক অনুসারী ধীরে ধীরে আশ্রম থেকে দূরে সরে যান।
পুলিশ বর্তমানে এই মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেল, বেআইনি অর্থ আদায়, মাদক প্রয়োগ এবং মানসিক প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের সন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র সামনে আসতে আরও সময় লাগবে।
মথুরা ও আশপাশের এলাকায় এই ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ধর্মীয় প্রভাবকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পেরেছেন কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে উঠে এসেছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.