রাজ্যের নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আবেদনপত্রের আকার ও তাতে চাওয়া বিপুল তথ্যের কারণে বহু উপভোক্তা সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনে আবেদনপত্র আরও সহজ করা হতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অন্নপূর্ণা যোজনা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পূর্ববর্তী ভাতা প্রকল্পের আওতাভুক্ত উপভোক্তাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আবেদনপত্র প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি দফতর, সাইবার ক্যাফে এবং পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে আবেদনকারীদের একাংশের অভিযোগ, ফর্মটি অত্যন্ত দীর্ঘ এবং এতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি, পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্কের তথ্যসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে আবেদন সম্পূর্ণ করা অনেকের পক্ষেই সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলা আবেদনকারী এই প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, প্রকল্পটি মূলত রাজ্যের মা-বোনেদের জন্য চালু করা হয়েছে। ফলে তাঁদের যদি আবেদনপত্র পূরণ করতে বাস্তব সমস্যা হয় এবং তাঁরা সরলীকরণের দাবি তোলেন, তাহলে সরকার সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, ফর্মে কোনও ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া উচিত হবে না। প্রশাসন তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তাই আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য প্রদান করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ব্যবস্থাই চালু রাখা হবে। যাঁরা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্যের জন্য সরকারি কর্মীরা সরাসরি এলাকায় গিয়ে সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এই কাজে যুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অফলাইনে আবেদনপত্র সংগ্রহের জন্য ব্লক প্রশাসন, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়, পুরসভা এবং ওয়ার্ড স্তরের বিভিন্ন অফিসকে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন এবং পূরণে সহায়তা করবেন। আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করে যোগ্যদের তালিকা চূড়ান্ত করবে।
অন্যদিকে, আবেদনকারীদের ভিড় সামাল দিতে প্রশাসন বিশেষ সহায়তা শিবির আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে এই শিবিরগুলির মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ পরিচালিত হতে পারে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, কোনও রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সেই কারণে আবেদন সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং পরিষেবা প্রদান—সব ক্ষেত্রেই ধাপে ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষের দাবি অনুযায়ী আবেদনপত্র কতটা সরল করা হয় এবং সেই সিদ্ধান্ত কবে কার্যকর হয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.