নদিয়ার নবদ্বীপে ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সৌরভ পাল নামে এলাকার এক তৃণমূল কর্মীকেও আটক করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান বহু স্থানীয় বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে নবদ্বীপের বরালহাট স্পোর্টিং ক্লাবে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে একাধিক ঘরে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী মজুত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ত্রিপল, কম্বল এবং বিভিন্ন ধরনের শাড়ি। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে এই সামগ্রীগুলি ক্লাবের ভিতরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, এই ত্রাণসামগ্রী সরকারি বরাদ্দের অংশ ছিল এবং তা প্রয়োজনমতো উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বহু মানুষ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরব হন এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যে ক্লাব থেকে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেটি চেয়ারম্যানের আবাসনের খুব কাছেই অবস্থিত। এই তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাব চত্বরে তল্লাশি চালায় এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করে।
রাত গভীর হলে বিপুল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা চেয়ারম্যানের বাড়িতে পৌঁছন। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় এলাকায় উপস্থিত বহু মানুষ বিক্ষোভ দেখান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ স্লোগান দিতে থাকেন এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশে জুতো ও জলের বোতল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিছুক্ষণের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলেও জানা যায়।
অন্যদিকে, বিমানকৃষ্ণ সাহা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কোনও ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই এবং তাঁকে শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ত্রাণসামগ্রী কেন ক্লাবে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।
পরবর্তীতে শনিবার সকালে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে গ্রেফতার করে। ত্রাণসামগ্রী সংক্রান্ত অনিয়ম ও সম্ভাব্য নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.