জোড়াসাঁকোর কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন গ্রেফতার, পকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা

কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে রবিবার সকালে জোড়াসাঁকোয় তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর থেকেই জোড়াসাঁকোয় কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির দরজা খোলা হয়নি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর পুলিশ বাইরে থেকে তালা খুলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে এবং মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এই গ্রেফতারির পেছনে রয়েছে এক তরুণীর পরিবারের সাম্প্রতিক অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক বছর আগে এক নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছিল। বর্তমানে ওই তরুণী কলেজে পড়াশোনা করেন। অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁকে আবারও হেনস্থা করা হয় এবং পুরনো মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পুলিশ ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলর-সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। মামলায় বেআইনি কার্যকলাপ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ এবং শ্লীলতাহানির মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগেই কাউন্সিলরের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

রবিবার কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করার সময় তাঁর বাড়ির বাইরে সমর্থকদের ভিড় জমে যায়। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তবে কোনও বড় ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটেনি।

রাজনৈতিক মহলেও এই গ্রেফতারি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মহম্মদ জসিমউদ্দিন অতীতে সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং পরপর দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। দলের অভ্যন্তরে তাঁর ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষের কথাও রাজনৈতিক মহলে শোনা গিয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতা পুরসভার আরেক কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তও সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে পুরসভার দুই কাউন্সিলরের গ্রেফতারি শহরের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তকারীরা অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক