‘তৃণমূল একটাই’— বিদ্রোহীদের পরিকল্পনার মাঝেই স্পিকারকে বার্তা অভিষেকের

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের একাংশের পৃথক ব্লক গঠনের জল্পনার মাঝেই দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন পাতার ওই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল এবং সংসদীয় দলের মধ্যে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়।

সূত্রের খবর, আগামী সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের। তাঁরা লোকসভায় একটি পৃথক ব্লক বা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে অভিষেক তাঁর বক্তব্য স্পিকারের কাছে লিখিত আকারে পৌঁছে দেন।

রবিবার বিকেলে রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ স্পিকারের দিল্লির সরকারি বাসভবনে গিয়ে চিঠিটি জমা দেন। একই সময়ে দিল্লিতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক সাংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়।

চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন যে কোনও রাজনৈতিক দলের সংসদীয় শাখা মূল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর বক্তব্য, একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের অধীনে একটিই সংসদীয় দল থাকে এবং সেই দলের জন্য নির্ধারিত নেতৃত্ব ও হুইপ সাংগঠনিক অনুমোদনের ভিত্তিতেই কাজ করেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে একই দলের সাংসদরা আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে পৃথক স্বীকৃতি দাবি করতে পারেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

এই বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংকট সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ যে ব্যাখ্যা দিয়েছিল, তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মূল রাজনৈতিক দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সংসদে সমান্তরাল গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ নেই।

চিঠি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কীর্তি আজাদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দলের মধ্যে এ ধরনের বিভাজনের কোনও সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। একই সুরে সাগরিকা ঘোষও দাবি করেন, দলের ঐক্য নষ্ট করার যে কোনও চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না এবং এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বৈঠকের প্রকাশিত ছবিতে তৃণমূলের একাধিক সাংসদকে একসঙ্গে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, পার্থ ভৌমিক, অসিত মাল, জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, শর্মিলা সরকার, মিতালি বাগ, বাপি হালদার, ইউসুফ পাঠান, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ এবং কালীপদ সোরেন।

এই ঘটনাপ্রবাহে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং লোকসভায় দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন স্পিকার বিদ্রোহী সাংসদদের সম্ভাব্য দাবি এবং তৃণমূল নেতৃত্বের আপত্তিকে কীভাবে বিবেচনা করেন, সেদিকেই নজর থাকবে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক