একসময় জুতো ছাড়াই চলাফেরা ছিল মানুষের স্বাভাবিক অভ্যাস। আধুনিক জীবনে জুতোর ব্যবহার অপরিহার্য হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাসকে আবারও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশেষ করে ছোট ছোট নুড়িপাথরের উপর হাঁটা পায়ের পেশি ও স্নায়ুকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে এই অভ্যাস সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়।
নুড়িপাথরের উপর হাঁটার সম্ভাব্য উপকারিতা
১. পায়ের পেশি আরও সক্রিয় হয়

অসমতল নুড়িপাথরের উপর হাঁটার সময় পায়ের ছোট ছোট পেশিগুলিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পায়ের শক্তি ও সহনশীলতা বাড়তে পারে। যাঁরা পাহাড়ি পথে হাঁটেন বা ট্রেকিং করেন, তাঁদের জন্যও এটি সহায়ক হতে পারে।
২. শরীরের ভারসাম্য উন্নত করতে সাহায্য করে
নুড়িপাথরের উপর হাঁটার সময় প্রতিটি পদক্ষেপে শরীরকে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। এর ফলে গোড়ালি, পায়ের পাতা এবং শরীরের অন্যান্য অংশের সমন্বয় আরও ভালো হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা ধরে রাখতে এই ধরনের অনুশীলন উপকারী হতে পারে।
৩. পায়ের নমনীয়তা বজায় থাকে
সব সময় সমতল মেঝে বা রাস্তার উপর হাঁটলে পায়ের চলাচল একঘেয়ে হয়ে যায়। কিন্তু অসমতল জায়গায় হাঁটার সময় পায়ের বিভিন্ন অস্থিসন্ধি ও পেশি ভিন্নভাবে নড়াচড়া করে। এতে পায়ের স্বাভাবিক নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য মিলতে পারে।
৪. রক্তসঞ্চালনে ইতিবাচক প্রভাব
হাঁটার ফলে পায়ের পেশির কার্যকলাপ বাড়ে, যা রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা রক্তসঞ্চালনের জন্য উপকারী বলেই ধরা হয়।
৫. স্নায়ুর উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়
পায়ের পাতায় অসংখ্য স্নায়ুপ্রান্ত রয়েছে। নুড়িপাথরের স্পর্শে এই স্নায়ুগুলি উদ্দীপিত হয়, যা মস্তিষ্ককে শরীরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাঠাতে সাহায্য করে। শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি হলেও ধীরে ধীরে শরীর এই অনুভূতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
কারা এই অভ্যাসে সতর্ক থাকবেন?
সব মানুষের জন্য খালি পায়ে নুড়িপাথরের উপর হাঁটা উপযুক্ত নয়। ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পায়ের অনুভূতি কমে যেতে পারে এবং সামান্য আঘাতও গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই অভ্যাস শুরু করা উচিত নয়।
এ ছাড়া যাঁদের বাত, অস্থিসন্ধির ব্যথা বা পায়ের অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভুলভাবে বা অতিরিক্ত সময় হাঁটলে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
কীভাবে শুরু করবেন?
প্রথম দিন থেকেই দীর্ঘ সময় হাঁটার পরিবর্তে কয়েক মিনিট দিয়ে শুরু করুন। পরিষ্কার ও নিরাপদ নুড়িপাথরের উপর হাঁটুন এবং হাঁটার পরে পায়ের তলা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। ব্যথা, কাটা বা ফোলা দেখা দিলে অভ্যাস বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শেষ কথা
নুড়িপাথরের উপর খালি পায়ে হাঁটা পায়ের পেশি, ভারসাম্য ও স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এটি কোনও চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই এই অভ্যাস গড়ে তোলা সবচেয়ে নিরাপদ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.