গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো ফলের উৎসব। আম, লিচু বা তরমুজের পাশাপাশি এই সময় বাজারে দেখা মেলে কালো জামেরও। টক-মিষ্টি স্বাদের এই মৌসুমি ফল শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। অনেকেই সামান্য লবণ ছড়িয়ে কালো জাম খেতে পছন্দ করেন। তবে চাইলে এই ফল দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ স্বাদের একটি সতেজ পানীয়, যা গরমে শরীরকে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিও জোগায়।
কালো জামের শরবত তৈরির উপকরণ
*কালো জাম – ৫০০ গ্রাম

*চিনি আধা কাপ অথবা মধু ২ টেবিলচামচ
*গোলমরিচ গুঁড়ো – আধা চা-চামচ
*ভাজা জিরে গুঁড়ো – আধা চা-চামচ
*পাতিলেবুর রস – ৩ টেবিলচামচ
*লবণ – স্বাদমতো
*পুদিনা পাতা – এক মুঠো
*জল – ২ লিটার
*বরফ – প্রয়োজনমতো
কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে কালো জাম ভালোভাবে ধুয়ে নিন। একটি পাত্রে জল গরম করে তাতে জামগুলো দিয়ে দিন। এরপর লবণ, চিনি বা মধু এবং গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে কয়েক মিনিট ফুটতে দিন। ফল নরম হয়ে এলে শাঁস ধীরে ধীরে বীজ থেকে আলাদা হতে শুরু করবে।
এরপর চুলা বন্ধ করে মিশ্রণটি ঠান্ডা করুন। ঠান্ডা হলে হাত বা চামচের সাহায্যে জামের শাঁস ভালোভাবে চটকে জলে মিশিয়ে নিন। তারপর ছাঁকনিতে ছেঁকে বীজ ও খোসা আলাদা করে ফেলুন।
ছাঁকা জুসে পাতিলেবুর রস, ভাজা জিরে গুঁড়ো বা অল্প চাট মশলা মিশিয়ে নিন। পরিবেশনের সময় গ্লাসে বরফ দিয়ে তার উপর শরবত ঢেলে পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
কেন খাবেন কালো জামের শরবত?
কালো জামে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, আয়রন, বিভিন্ন খনিজ এবং পলিফেনল, যা শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। গরমের দিনে এটি শরীরে সতেজ অনুভূতি এনে দিতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে কালো জাম বা এর শরবত খাওয়া রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সচেতন ব্যক্তিদের জন্যও এটি একটি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর পানীয় বিকল্প হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিনি ব্যবহার না করে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পান করাই ভালো।
গরমে একঘেয়ে ফলের শরবতের বদলে কালো জামের এই টক-মিষ্টি পানীয় সহজেই আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় নতুন স্বাদ যোগ করতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.