হুগলির বলাগড়ের জিরাটে অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেকে কেন্দ্র করে বড়সড় উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা ঘিরে এলাকায় উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের বাজেটে এই ঐতিহাসিক স্থানের সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন এবং ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল মূর্তি নির্মাণের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জিরাট নতুন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বলাগড়ে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পর এবার বাজেটে প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ হওয়ায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জিরাটের স্মৃতিমন্দির পাড়ায় অবস্থিত এই পৈতৃক বাড়ির সঙ্গে গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে মুখোপাধ্যায় পরিবারের। যদিও শিক্ষাবিদ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর পুত্র শ্যামাপ্রসাদের জন্ম জিরাটে হয়নি, তবুও এই অঞ্চল তাঁদের পূর্বপুরুষের নিবাস হওয়ায় ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে ঘিরে এলাকায় স্কুল ও গ্রন্থাগার থাকলেও শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিরক্ষায় এতদিন উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল না। কয়েক বছর আগে স্থানীয় উদ্যোগে তাঁর একটি মূর্তি স্থাপন করা হলেও এবার অনেক বৃহত্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তিটি গুজরাটের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের বিখ্যাত ভাস্কর্যের আদলে নির্মাণ করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি পৈতৃক বাড়ির সংস্কার, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জিরাট রাজ্যের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয়দের আশা।
মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে এত বড় সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সরকারের এই উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই প্রকল্প শুধু ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সংরক্ষণ করবে না, বরং বলাগড় ও জিরাটের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথও সুগম করবে।
অন্যদিকে, বলাগড়ের বিধায়ক ও রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুমনা সরকার জানিয়েছেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে যথাযথ মর্যাদা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনের আগে দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তাঁর পৈতৃক ভিটের উন্নয়নের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন, স্থানীয় ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। ফলে জিরাট আগামী দিনে বাংলার পর্যটন মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারে বলেই আশাবাদী স্থানীয় মানুষ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.