Kanchan: পুরনো দিনের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করলেন অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan)। কোনরকম স্বজন-পোষণ ছাড়াই তিনি যে নিজের জায়গা ইন্ডাস্ট্রিতে গড়ে তুলেছেন তার পেছনে অবদান রয়েছে বহু পরিচালকের। তারা শাসন করে, শিখিয়ে তাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। এদিন বেশ কিছু পরিচালকের সাথে তোলা ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেতা, সাথে লিখেছেন লম্বা বার্তা।
লেখেন, “আমি যে সময় কাজ শুরু করেছিলাম, সেই সময় পরিচালক ব্যক্তিটি আমাদের কাছে অন্তত আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভয়ের। একটি ছেলে কোন পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই যখন অভিনয় করতে আসে, শুধুমাত্র থিয়েটারে অভিনয় চর্চা ও নিজের দক্ষতার ভিত্তিতে। আমি কোন সুপুরুষ নই, কোন নিপোটিসম নেই, কোন ফেভারিটিজম নয়, ফিন্যান্সিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড নেই যার, আছে শুধুমাত্র ঝুলি ভর্তি কাজ শেখার আগ্রহ, এবং নিষ্ঠার সাথে কাজের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা।
এই যে উপরে যাদের সাথে আমার ছবিগুলো দেখলেন, ওনারা হলেন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেই পরিচালক, যারা সেই সময় সত্যিই দাপটের সাথে পরিচালনা করতেন। এবং বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে অনেক সুপার ডুপার হিট সিনেমা ও সুপারস্টার উপহার দিয়েছেন। ওনাদের ছবিতে কাজ করার সুযোগ পাওয়া অনেক তপস্যার ফল ছিল। শুধু আমার ক্ষেত্রে না ,অনেক শিল্পীদের অপেক্ষার পর অপেক্ষা করতে হতো শুধুমাত্র ওনাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার জন্য।
সেইখানে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, আমার ৩০ বছরের বেশি কর্মজীবনের ঝুলিতে স্বপন সাহা, হরনাথ চক্রবর্তী, অনুপ সেনগুপ্ত, এই ছবিতে আরো বাকি দুজন নেই কিন্তু আমার কর্মজীবনে তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে তাই তাদের নাম নিতেই হয় তাঁরা হলেন নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখার্জী এনাদের মত পরিচালকের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে সেই জন্যই হয়তো আজকে সারা বাংলা জুড়ে আমাকে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক হিসেবে চেনে।
এই ছবিটা তুলতে গিয়ে অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল, অনেক চড়াই উতরাই মনে পড়ে গেল, অনেক স্ট্রাগল মনে পড়ে গেল,কারণ আমাদের কাছে পরিচালক মানেই শেষ কথা। সেখানে নিজের কোন দাবি রাখার জায়গা আমার কাছে অন্তত ছিল না। তাই হয়তো জীবনে যতটুকু শিখেছি, ততটুকু দর্শকদের ভালোবাসায় আপনাদের মনোরঞ্জন করার জন্য পুরোটা উজার করে দিই। নিজের স্মৃতিটুকু আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।”

Sudeshna has been writing entertainment reports since 2021.