গরমের শুরুতেই ঘরে ঘরে জ্বর-পেটের রোগে উদ্বেগ, কী বলছেন চিকিৎসকরা?

ঠান্ডা শেষে গরমের আবহ শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে জ্বর, বমি, পেটের ব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের মানুষেরই। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর দীর্ঘ সময় ধরে থাকছে, আবার কারও কারও পেটের সমস্যা টানা দুই সপ্তাহ বা তারও বেশি স্থায়ী হচ্ছে, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় অনেকটাই উদ্বেগজনক।

চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়ার এই পরিবর্তন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে একাধিক ভাইরাস একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে পড়ছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত গতিতে।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির পেছনে মূলত কিছু নির্দিষ্ট ভাইরাস দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডিনোভাইরাস, নোরোভাইরাস এবং রোটাভাইরাস। সাম্প্রতিক সময়ে এই ভাইরাসগুলোর কিছু পরিবর্তিত রূপ বা মিউটেশন ঘটেছে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন, যার ফলে সংক্রমণ ক্ষমতা আরও বেড়ে গেছে।

পেটের সমস্যার ক্ষেত্রে রোটাভাইরাস এবং নির্দিষ্ট ধরনের অ্যাডিনোভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নোরোভাইরাস সংক্রমণ হলে সাধারণত অন্ত্রের প্রদাহ দেখা দেয়, যার ফলে বারবার বমি, ডায়রিয়া ও পেটে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়।

এই ভাইরাসগুলো সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ, একই পাত্র ব্যবহার, অথবা অপরিষ্কার হাত দিয়ে মুখে স্পর্শ করার মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সংক্রমণ অনেক সময় বেশি গুরুতর আকার ধারণ করে।

সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণত ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেখা দেয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিন স্থায়ী হয়। তবে বর্তমানে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এই উপসর্গ ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে বলে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ।

প্রধান উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে—

বারবার জ্বর ওঠা
পেট ব্যথা ও খিঁচুনি
বমি বমি ভাব বা বমি
ঘন ঘন পাতলা পায়খানা
শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া
মাথা ব্যথা ও গা ব্যথা

চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এই সময়ে খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা প্রয়োজন। রাস্তার খাবার, খোলা পানীয় বা অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা উচিত। এছাড়া হাত না ধুয়ে কিছু খাওয়ার অভ্যাস থেকেও সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঘরের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ব্যবহৃত বাসনপত্র আলাদা রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসজনিত এই ধরনের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। তাই নিজের থেকে ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক